পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা:রবীন্দ্র সদনে তসলিমা নাসরিনের “ফেরা” অনুষ্ঠানে এক অনভিপ্রেত ঘটনা। তাসলিমা নাসরিন যখন জয় গোস্বামীকে মঞ্চে আহ্বান জানান ঠিক তখনই দর্শকদের একাংশের ব্যবহারে কবি জয় গোস্বামী মঞ্চে উঠতে পারেন না। এই ঘটনা নিয়ে আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তসলিমা । তিনি বলেন, ” শুধু জয়কে নয়, আমাকেও অপমান করা হয়েছে ৷ আমি কিন্তু ভাষণে বাক স্বাধীনতার কথা বলেছিলাম ৷”
শনিবার এই ঘটনা যখন ঘটে তখন রবীন্দ্রসদনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ না করলেও আজ তিনি ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, “গতকালের ঘটনা আমার খারাপ লেগেছে ৷ কারণ ওটা তো শুধু জয়কে অপমান করা হয়নি আমাকেও অপমান করা হয়েছে ৷ কারণ আমি নিজে জয়কে মঞ্চে ডেকেছিলাম ৷ আর আমি আমার ভাষণে বাক স্বাধীনতার পক্ষে কথাই বলেছিলাম ৷ ভিন্নমত থাকলেও সবাইকে কথা বলতে দিতে হবে ৷ যাঁরা আমার কথা পছন্দ করেছিলেন, তাঁদের মধ্যেই কি তাঁরা ছিলেন, যাঁরা জয় গোস্বামীকে মঞ্চে উঠতে দেননি ৷ বলেছিলাম, আমাদের ভিন্নমত থাকতে পারে কিন্তু সবাইকে কথা বলতে দিতে হবে। কারও কথা বন্ধ করে দেওয়া ঠিক নয় ৷”
১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরেছেন সাহিত্যিক। শনিবার রবীন্দ্র সদনে তাঁর প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ‘ফেরা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে লেখিকাকে স্বাগত জানিয়ে নাগরিক সংবর্ধনা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ৷
এরপর অনুষ্ঠানের মাঝে তাসলিমা নাসরিন যখন ভাষণ দিতে ওঠেন ঠিক তখনই দর্শকাসনে বসে থাকা কবি জয় গোস্বামীকে দেখতে পান তিনি এবং তাঁকে মঞ্চে আসার জন্য আহ্বান জানান ৷ কিন্তু কবি নিজের আসন ছেড়ে মঞ্চের দিকে এগোতেই প্রেক্ষাগৃহে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় ৷ উপস্থিত দর্শকদের একাংশ চিৎকার শুরু করেন ৷ তাঁরা বলতে থাকেন, ‘‘ওঁর কথা শুনতে চাই না।”
প্রবল আপত্তি। শেষ পর্যন্ত মঞ্চ থেকে নেমে যান বর্ষীয়ান কবি জয় গোস্বামী। কিন্তু দর্শকদের এই ক্ষোভ কেন? তসলিমা যে দীর্ঘ কয়েক বছর ফিরতে পারেননি সেই সময় জয় গোস্বামীর নীরবতা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা। মূলত এই দুটো কারণকেই সামনে রাখা হচ্ছে।
আজ তাসলিমা নাসরিন বলেন,
“একদিকে একজন যখন মত প্রকাশের অধিকারের পক্ষে বলছে তখন তোমরা তাঁকে সমর্থন করছো ৷ কিন্তু মত প্রকাশের অধিকারের জন্য যখন বাস্তবে তিনি আরেকজন কবিকে ডাকছেন তুমি তখন তার কথা শুনতে চাইছো না ৷ তাহলে তো আমার খারাপ লাগবেই ৷ আশা করি এরকম অবস্থা আর হবে না, কারণ কলকাতা প্রগতিশীলদের শহর ৷ আমি নিজে যাব জয় গোস্বামীর বাড়িতে। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। “
স্বাভাবিকভাবেই শনিবারের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন।