প্রণব দোলের গ্রেফতারে সরব গৌরব গগৈ

21

নিউজ ডেস্ক: কাজিরঙার সমাজকর্মী প্রণব দোলের গ্রেফতারে মুখ খুললেন অসমের কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ। কাজিরঙায় বিলাসবহুল হোটেল প্রকল্পের বিরোধিতা করায় ১২ জুলাই অসম পুলিশ গ্রেফতার করে টিআইএসএস স্নাতক প্রণব দোলেকে। নিম্ন আদালত জামিন দিলেও একদনের মধ্যে অসম সরকার জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (এনএসএ) তাঁকে ফের গ্রেফতার করেছে।
প্রণব দোলের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ হওয়ায় সরব গৌরব গগৈ। তিনি বলেছেন, কাজিরঙায় বিলাসবহুল হোটেল তৈরির প্রতিবাদকে এখন জাতীয় নিরাপত্তার সমস্যা বলছে অসম সরকার! জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার করে অসমের বিজেপি সরকার সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক খর্ব করছে। প্রণব দোলের মতে কেউ সম্মত কিংবা অসম্মত হতে পারে, কিন্তু প্রত্যেক নাগরিকের প্রশ্ন করার অধিকার দিয়েছে সংবিধান। আদালত জামিন দেওয়ার পর অসম সরকার জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করেছে প্রণব দোলেক। যার মূল বার্তা, সরকারের বিরুদ্ধে সবার কণ্ঠরোধ। একই ঘটনা দেখা গেছে কেন্দ্রীয় সরকার যখন সিকিমের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করেছিল। আশা করি সুপ্রিম কোর্ট প্রণব দোলের বিষয়টি যথাযথ বিচার করবে।
কাজিরঙা জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন ইংলেপাথারে প্রস্তাবিত বিলাসবহুল হোটেল প্রকল্পের বিরুদ্ধে কর্মী ও স্থানীয়দের ২৮ জুনের বিক্ষোভের ঘটনায় ১২ জুলাই গোলাঘাট পুলিশ গ্রেফতার করে প্রণব দোলেক। এই ঘটনায় আরও ৪ কর্মীকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। প্রণব দোলে বেশ কয়েক বছর ধরে এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন এবং প্রকল্পের সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব ও আদিবাসী গ্রামবাসীদের বাস্তুচ্যুতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এফআইআর-এ পুলিশ অভিযোগ করেছে যে, দোলে এবং আরও প্রায় পঞ্চাশজন ব্যক্তি পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে, দা, ধারালো লাঠি ইত্যাদির মতো মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রকল্পস্থলে অনধিকার প্রবেশ করে, সেখানকার একটি সিমেন্ট মিক্সারে আগুন লাগানোর চেষ্টা করে, কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের ওপর হামলা চালায় এবং দোলে ও অন্যরা জনতাকে উসকানি দেয় এবং আরও আন্দোলন করার হুমকি দেয়। এই ঘটনা ঘটেছিল ২৮ জুন। প্রণব দোলেকে পুলিশ গ্রেফতার করে ১২ জুলাই।

২৯ জুলাই দোলের জামিন মঞ্জুর করার আদেশে গোলাঘাটের এক অতিরিক্ত দায়রা জজ পর্যবেক্ষণ করেন যে, এই অভিযোগগুলো প্রমাণ করে এমন কোনও ভিডিও ফুটেজ আপাতদৃষ্টিতে নেই এবং তদন্ত চলাকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র উদ্ধার করেনি।
তদন্তে সহযোগিতার শর্তে প্রণব দোলেকে জামিন দেওয়ার পর বিচারক আদেশে বলেছিলেন, যেখানে পরিবেশগত সংরক্ষণ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব রক্ষার সঙ্গে জড়িত, সেখানে স্থানীয় উদ্বেগ দমনের জন্য ফৌজদারি আইনের প্রচলিত কাঠামো ব্যবহার করা যায় না। ক্ষতিগ্রস্তদের কণ্ঠরোধ করে নয়, বরং তাদের কথা শুনেই প্রকৃত জনশৃঙ্খলা অর্জিত হয়
তবে, প্রণব দোলে যখন গোলাঘাট জেলা কারাগারে বন্দি, তখনই অসম সরকার গোলাঘাটের এসএসপি-র রিপোর্টের ভিত্তিতে এনএসএ-র অধীনে তাঁর প্রতিরোধমূলক আটকের আদেশ জারি করে। আদেশে বলা হয়েছে যে, সরকার আটককৃত ব্যক্তির ওপর আরোপিত কার্যকলাপের প্রকৃতি, গুরুত্ব, পুনরাবৃত্তি এবং সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনা করেছে এবং যদি তাঁকে নিবৃত্ত করা না হয়, তবে আটককৃত ব্যক্তির রাজ্যের জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়ার একটি বাস্তব ও আসন্ন সম্ভাবনা রয়েছে।
তার আটকের কারণ দর্শানোর দফায় বলা হয়েছে যে, গোলাঘাট জেলায় তার বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা নথিভুক্ত রয়েছে, যেগুলিতে তার বিরুদ্ধে বেআইনি সমাবেশ, দাঙ্গা, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনসহ অন্যান্য অভিযোগ আনা হয়েছে এবং এমনও খবর পাওয়া গেছে যে, তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে রাস্তা অবরোধ থেকে শুরু করে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
এতে আরও বলা হয়েছে যে, মামলার নথি থেকে দেখা যায়, তিনি বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করে সন্দেহজনক উৎস থেকে সন্দেহজনক বৈদেশিক লেনদেনে লিপ্ত হয়েছেন।
বৃহত্তর কাজিরঙা ভূমি ও মানবাধিকার কমিটির আহ্বায়ক ৪০ বর্ষীয় প্রণব দোলে বিধানসভা নির্বাচনে বোকাখাত কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী হিসেবে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং অন্যান্য কাজের পাশাপাশি, ২০২৫ সালের নভেম্বরে জেনেভায় অনুষ্ঠিত ব্যবসা ও মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ফোরামে ভাষণ দেন।