পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা: ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করা মামলায় ফের দেরী। কলকাতা হাইকোর্টের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র এখনও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর হাতে পৌঁছায়নি। আজ কলকাতা হাইকোর্টে এই তথ্য সামনে আসতেই চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি। কেন যথাসময়ে প্রয়োজনীয় নথি পাঠানো গেল না? তা জানতে কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটের ফল এবং গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুনর্গণনার আর্জি জানিয়ে এই মামলা দায়ের করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মামলায় নিজে হাজির হয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। আজ এই মামলার শুনানি চলাকালীন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আবশ্যিক কাগজপত্র হাতে না পাওয়ায় মামলার শুনানি কার্যকরভাবে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ক্ষোভ উগরে দিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কলকাতা হাইকোর্টের তো অলিখিত নিয়মই হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, নির্বাচনী মামলার নিষ্পত্তি পাঁচ বছরেও হয় না!”
শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষে আইনজীবী জয়দীপ কর এর বিরোধিতা করেন। তিনি এজলাসে জানান, আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশ মেনেই সংশ্লিষ্ট ইভিএম এবং মামলার যাবতীয় প্রাসঙ্গিক নথিপত্র ইতিমধ্যেই যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ফলে মামলার গতি স্তব্ধ হওয়ার কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই ।
উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে প্রতিটি পক্ষকে নিজেদের কাছে থাকা প্রয়োজনীয় নথির কপি অপর পক্ষকে হস্তান্তর করতে হবে এবং সেই সংক্রান্ত হলফনামা আদালতে পেশ করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ নির্ধারিত নথিপত্র ঠিকমতো হাতে পেলেন কি না, রেজিস্ট্রার জেনারেলকে তা সুনিশ্চিত করতে হবে।