অসমে বন্যায় মৃত ৯৭, ক্ষতিগ্রস্ত ১.৬৮ লক্ষ

32

নিউজ ডেস্ক: অসমে ভয়ংকর বন্যার প্রকোপ কমলেও এখনও ক্ষতিগ্রস্ত ১.৬৮ লক্ষ মানুষ। মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭। ১৫ জেলায় ৩৯ রাজস্ব চক্রের ৪৮০ গ্রাম জলের তলায়। নুমলিগড়ে ধনসিড়ি নদীর জল বইছে বিপদসীমার ওপরে।
বন্যায় চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্ত গোলাঘাট, শিবসাগর, ওদালগুড়ি, কামরূপ (মেট্রো), কামরূপ, নগাঁও, দরং, শোণিতপুর, হোজাই, লখিমপুর, বিশ্বনাথ, যোরহাট, চরাইদেও, কার্বি আংলং এবং ধেমাজি জেলা।
অসমের বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে শুক্রবার পর্যন্ত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ১ লক্ষ ৬৮ হাজার, ১৪,৩৮২ হেক্টর কৃষিজমি এখনও জলের তলায়। শিবসাগরে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। গোলাঘাটে ৫৪ হাজার, যোরহাটে ২৭ হাজার এবং চরাইদেও জেলায় ২১ হাজার।
অসম প্রশাসন ১৩৩টি ত্রাণ সুবিধা কেন্দ্র চালাচ্ছে, এর মধ্যে রয়েছে ৫০টি আশ্রয় শিবির এবং ৮৩ ত্রাণবণ্টন কেন্দ্র। আশ্রয় শিবিরে এখনও রয়েছেন ১০ হাজার মানুষ। ত্রাণবণ্টন কেন্দ্র থেকে খাবার ও বিভিন্ন সামগ্রী নিচ্ছেন ৩৫ হাজার বাসিন্দা।
শিবসাগরের আশ্রয় শিবিরে সবচেয়ে বেশি মানুষ রয়েছেন, ৭ হাজার। এর পরই রয়েছে যোরহাট, ১২৭০, নগাঁওয়ে ১০১৬, গোলাঘাটে ৫৮৯ এবং দরংয়ে ২৩১।
বন্যায় বাড়িঘর, রাস্তা, সেতু, সরকারি পরিকাঠামোর পাশাপাশি ক্ষতি হয়েছে ফসলের। বৃষ্টি কমলেও কাদামাটির স্তর রয়েছে বহু গ্রামে। অনেকেই নিজের বাড়িতে ফিরতে পারছেন না।
মেঘালয়ের পর ঝাড়খণ্ড সরকার অসমের বন্যাত্রাণে আর্থিক সাহায্য পাঠিয়েছে। কয়েকদিন আগে মেঘালয় সরকার অসমের বন্যাত্রাণে দিয়েছিল এক কোটি টাকা। ঝাড়খণ্ড দিয়েছে তিন কোটি টাকা। ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন বলেছেন, অসমের ভয়ংকর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা। ঝাড়খণ্ডের মানুষের পক্ষ থেকে স্বজন ও সম্পদ হারানো পরিবারকে আমার সমবেদনা জানাই। এই সংকটের সময় সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানাই, লিখেছেন হেমন্ত সোরেন।