নিউজ ডেস্ক: ঘটনা হরিয়ানার ফরিদাবাদে। বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা বছর আটাশের সন্ধ্যা শর্মা সিকরোনা গ্রামের একটি স্কুলে প্রতিদিনের মতো ছাত্রদের পড়ানোয় ব্যস্ত ছিলেন। নিজেকে সন্ধ্যার স্বামী পরিচয় দিয়ে এক যুবক মুখ ঢেকে স্কুলে ঢোকে। স্কুলের এক কর্মীকে বলে, সন্ধ্যাকে ডেকে দিতে। সন্ধ্যা স্কুলের গেটের কাছে আসতেই আচমকাই ওই যুবক সন্ধ্যার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। টেনে বাইরে নিয়ে যায় এবং কমপক্ষে ২০ বার ছুরি দিয়ে শিক্ষিকাকে আঘাত করে। প্রাণ বাঁচানোর জন্য সন্ধ্যা চিৎকার করতে শুরু করলে স্কুলের চেয়ারম্যান তেজপাল শর্মা বেরিয়ে আসেন। তিনি হামলাকারীকে আটকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁকেও কোপানো হয় বলে অভিযোগ। স্কুল চত্বরেই ভেসে যেতে থাকে রক্ত, এরপরই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে সন্ধ্যাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে সে সন্ধ্যাকে অন্তত ২০ বার ছুরিকাঘাত করে। ছুরির আঘাত এতটাই জোরালো ছিল যে এক পর্যায়ে ব্লেডটি বেঁকে যায়।
হরিয়ানার ফরিদাবাদের দাবুয়া এলাকায় জন্মগ্রহণ করা সন্ধ্যা সাত বছর আগে ভালোবেসে বিকাশ ‘ভিকি’ কারহাজাকে বিয়ে করেন এবং পরে কাছাকাছি সিকরোনা এলাকায় বসবাস শুরু করেন। তিনি ওই অঞ্চলের একাধিক বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করার পর সরস্বতী সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলে যোগ দেন। সন্ধ্যার নয় বছরের এক পুত্র এবং সাত বছরের এক কন্যা আছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, অমিত নামে বছর একুশের এক যুবক দুই বছর ধরে সন্ধ্যাকে উত্ত্যক্ত করছিল এবং প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছিল। সন্ধ্যা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং পূর্বে তার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির একটি অভিযোগও দায়ের করেছিলেন। সেই আক্রোশ ও প্রতিশোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, অমিত প্রায় দুমাস ধরে এই খুনের পরিকল্পনা করছিল এবং এই অপরাধের জন্যই একটি বিশেষ ছুরি কিনেছিল। পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে।