এফসিআরএ বিল নিয়ে কোমর বাঁধছে শাসক-বিরোধী

3

নিউজ ডেস্ক: বাদল অধিবেশনের শেষ সপ্তাহে সংসদে পেশ হতে পারে বৈদেশিক অনুদান সংশোধনী বিল। বিল পেশ হতে পারে বলে ইতিমধ্যে এনডিএ এবং প্রধান বিরোধী দল সহ সব সাংসদদের সংসদে উপস্থিত থাকার হুইপ জারি করা হয়েছে।


এই বিল নিয়ে শঙ্কাপ্রকাশ করেছেন আমেরিকার আইনপ্রণেতা রাইলি মুর। বিলের বিষয়বস্তু নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছে বিশ্বের কূটনৈতিক মহলে। যদিও ভারতের বিদেশমন্ত্রক রাইলির মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এবিষয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার রয়েছে ভারতের সংসদের। এইসঙ্গে জয়সওয়াল বলেন, ভারতে বিদেশি তহবিল নিয়ন্ত্রণে আমেরিকা-সহ কয়েকটি দেশের হাত রয়েছে।


সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য রাইলি দাবি করেন, এফসিআরএ বিল এনে ভারতে সরাসরি খ্রিস্টানদের উপরে আঘাত হানা হচ্ছে। ভারত এবং আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপরেও এই আইন প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন রাইলি। রাইলি বলেছেন, এই বিল আইনে পরিণত করে গির্জা এবং ধর্মীয় দাতব্য সংস্থাগুলির ওপরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে চায় ভারত সরকার।


এই বিলের মাধ্যমে কেন্দ্র চাইছে বিদেশ থেকে অনুদান হিসেবে যে অর্থ আসছে এবং সেই অর্থে তৈরি সম্পদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ জারি করতে। বিলে বলা হয়েছে, বিদেশি অনুদানে যে সম্পদ তৈরি হবে, তা প্রাথমিকভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থা যদি বিদেশি অনুদান পাওয়ার ছাড়পত্রের তালিকায় থাকে তবে সেই সম্পদের মালিকানা পাবে। শুধু তা-ই নয়, এই বিলের কয়েকটি বিধি নিয়েও আপত্তি করেছে বিভিন্ন অসরকারি সংগঠন। বিলে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সংস্থা যদি রেজিস্ট্রেশন নবীকরণ না করে সেই সংস্থার বিদেশি অনুদান পাওয়ার কোনও অধিকার থাকবে না। ওই সংস্থার সম্পদ বাজেয়াপ্ত হতে পারে।


এফসিআরএ সংস্কার বিলের বিরোধিতা করছে কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা। তারা বলেছে, ঐক্যবদ্ধভাবে এই বিলের বিরোধিতা করবে। মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালডুহোমা ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে এই বিলের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। আপত্তি জানিয়েছে মিজোরাম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ডের বিভিন্ন অসরকারি সংগঠনও।