পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা: আর জি কর কান্ডের ঘটনায় পেরিয়ে গিয়েছে দু’বছর। একাধিকবার সিবিআই তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভয়ার মা-বাবা। আসল অভিযুক্ত কে বা কারা? সেদিন কী ঘটেছিল, এইসব প্রশ্ন নিয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন তাঁরা। পালাবদলের পর খোলা হয়েছে সমস্ত ফাইল। এই পরিস্থিতিতে অভয়ার শেষকৃত্যের সময় পানিহাটি শ্মশানঘাটে কী ঘটেছিল, তা পুলিশকে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপরই খড়দা থানায় নতুন এফআইআর দায়ের করলেন অভয়ার বাবা। যেখানে পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে এবং সন্দীপ মুখোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আর জি করের সেমিনার হল থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। কলকাতা পুলিশের তরফে সঞ্জয় রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার নেয় সিবিআই। সঞ্জয়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয় আদালত। তবে নতুন করে কাউকে গ্রেপ্তার করেনি সিবিআই। অভয়ার বাবা-মায়ের দাবি, এই ঘটনায় আরও অনেকে যুক্ত রয়েছে। সিবিআইয়ের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হাই কোর্টও।
অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণ অনুষ্ঠানে পানিহাটিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ”দেহ দাহ করার খরচ পর্যন্ত বাড়ির লোক দিতে পারেনি। বাড়ির লোককে সই করতে হয়। কিন্তু সেই সই ছিল না। নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সন্দীপ মুখোপাধ্যায় এই কাণ্ড করেছেন।”
এরপরই বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে এই বিষয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী দ্রুত যাতে অ্যাকশন নেওয়া হয় সেই বার্তাও তিনি দেন। খড়দা থানায় নতুন করে একটি এফআইআর দায়ের করেন অভয়ার বাবা। অভয়ার সৎকারের সময় পানিহাটি শ্মশানঘাটে কী ঘটেছিল তা খড়দা থানার পুলিশ খতিয়ে দেখবে বলে খবর।
এই পরিস্থিতিতে নতুন করে সিবিআই তদন্ত শুরু করেছে। আগের তদন্তকারীর জায়গায় নতুন আধিকারিককে নিয়োগ করে শুরু হয়েছে তদন্ত। এমনকী ঘটনার দিন কি ঘটেছিল, তা জানতে স্বাস্থ্যদপ্তরও নতুন করে একটি তদন্ত শুরু করেছে। যার রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরকে তুলে দেওয়া হবে বলে খবর।