ঝাড়খণ্ডের ছাত্রবিক্ষোভের আঁচ সংসদে

30

নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের বিধানসভা অভিযানে কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জের প্রতিবাদে সংসদ চত্বরে শাসক দলের সাংসদরা বিক্ষোভ দেখান। দাবি তোলেন, রাহুল গান্ধীকে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যদিকে, অমিত শাহর বিবৃতির দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিরোধী সাংসদরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে যায় যে সংসদের মকর দ্বারের সামনে দুপক্ষের মাঝে ঠেলাঠেলি শুরু হয়।
এনডিএ সাংসদদের অভিযোগ, ঝাড়খণ্ডের ঘটনায় রাহুল গান্ধীর ‘নীরবতা’ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি রাহুল গান্ধীকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে স্লোগান দেন বিজেপি সাংসদরা। এদিকে, অমিত শাহকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে স্লোগান দিতে থাকেন বিরোধী জোটের সাংসদেরা। বিক্ষোভের সময় বিজেপি সাংসদ মুকেশ দালালকে দেখে প্রিয়ঙ্কা গাঁধী হাসতে হাসতে বলেন, রাহুল ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়াদের সঙ্গেও দেখা করেছেন।
মকর দ্বারের সামনে এনডিএ এবং ইন্ডিয়া-র সাংসদরা মুখোমুখি স্লোগান দিতে থাকেন। এক পক্ষ স্লোগান দেয়, রাহুল গাঁধী ক্ষমা চাও। অপর পক্ষ বলে, অমিত শাহ ক্ষমা চাও।
দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভরত ছাত্র-যুবদের উপরে ছররা গুলি, পেরেক লাগানো লাঠি, ইলেকট্রিক ব্যাটন চালিয়েছিল পুলিশ। এবিষয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিবৃতির দাবিতে সংসদ অচল। এদিকে, সেই ইন্ডিয়া-র শরিক ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা সরকারের পুলিশ সোমবার লাঠিচার্জ করে ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়াদের ওপর। রাঁচিতে চলে জলকামান। ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাসও।
যদিও সোমবার এপ্রসঙ্গে রাহুল গান্ধী বলেছেন, ঝাড়খণ্ডে প্রতিবাদরত পড়ুয়াদের ওপর বলপ্রয়োগ করা অন্যায়। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে সবার। শুধু ঝাড়খণ্ড বা দিল্লি নয়, দেশের যে কোনও জায়গায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে আমরা। ঝাড়খণ্ড সরকারকে অবশ্যই পড়ুয়াদের কথা শুনতে হবে। প্রয়োজনে একবার নয়, বার বার আলোচনায় বসতে হবে সরকারকে। আলোচনা প্রক্রিয়া চালু রাখতে হবে। অবিলম্বে তাদের সমস্যার সমাধান করতে হবে ঝাড়খণ্ডের সরকারকে।
এনডিএ সাংসদদের দাবি প্রসঙ্গে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বলেন, এই প্রথম দেখলাম শাসক শিবিরের সাংসদরা প্রতিবাদ করছেন। আমরা তাঁদের এটা করতে বাধ্য করেছি। এ বার অমিত শাহর সংসদে এসে বিবৃতি দেওয়া উচিত।