এফসিআরএ বিলে আপত্তি নাগাল্যান্ডের

29

নিউজ ডেস্ক: মিজোরামের লালডুহোমার পর নাগাল্যান্ডের নেইফিউ রিও, প্রস্তাবিত বিদেশি অনুদান সংশোধনী বিল আপত্তি জানালেন উত্তর-পূর্ব ভারতের দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর কাছে নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও আর্জি জানিয়েছেন যে এই বিল পুনর্বিবেচনা করা হোক। তাঁর মতে, বিদেশি অনুদান সংশোধনী বিল পাস হলে চার্চ এবং খ্রিস্টান দাতব্য সংস্থার কাজে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং সমাজকল্যাণের কাজে ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে নিজের আপত্তির কথা জানিয়েছেন রিও। তাঁর মতে, এই বিল পাস হলে গভীর আশঙ্কা তৈরি হবে সাধারণের মনে। বিল পাস করানোর আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ঐকমত্য তৈরি করা দরকার, চিঠিতে লিখেছেন নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী।
বিদেশি অনুদান সংশোধনী বিল ২০২৫ সালের মার্চ মাসে লোকসভায় পেশ করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু আলোচনার আগেই সেটি পাঠিয়ে দেওয়া হয় সংসদের যৌথ কমিটির কাছে। রিও বলেছেন, বিল পাসের আগে সাংবিধানিক মূল্যবোধ, অসাম্প্রদায়িক মনোভাব এবং সব গোষ্ঠীর অবদান মাথায় রাখা উচিত।
রিও জানিয়েছেন যে সমাজের বিভিন্ন স্তর, বিশেষ করে খ্রিস্টান সম্প্রদায় প্রস্তাবিত বিল নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। ৯ আগস্ট কোহিমার নাগাল্যান্ড ব্যাপটিস্ট চার্চ কাউন্সিলের নেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন রিও। সেই আলোচনায় প্রতিনিধিরা বলেন, এই বিল পাস হলে চার্চ এবং খ্রিস্টান সংগঠনের সমাজকল্যাণ পরিষেবায় আঘাত আসবে।
নাগাল্যান্ডের ৯০ শতাংশ মানুষ খ্রিস্টান, একথা উল্লেখ করে রিও বলেন, এই রাজ্যের আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য দূরীকরণ, সমাজকল্যাণ এবং সাধারণ মানুষকে জীবিকার সংস্থানের ক্ষেত্রে বহুদিন ধরেই চার্চগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রান্তিক অঞ্চল এবং আর্থিকভাবে দুর্বল এলাকায় আইনি বিদেশি অনুদানের সহায়তায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সমাজকল্যাণ পরিষেবা দিচ্ছে খ্রিস্টান সংগঠনগুলি।
রিওর মতে, বিদেশি অনুদান সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরও কড়া করলে তার অভিঘাত আসবে নাগাল্যান্ডের সাধারণ মানুষের ওপর। এর ফলে চার্চ এবং দাতব্য সংস্থাগুলি পড়বে চরম আর্থিক সংকটে। এবং তার ফলে চলতি সমাজকল্যাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া প্রান্তিক এলাকায় যেসব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সীমিত সামর্থ্যে উন্নয়নমূলক কাজ করে তারাও পড়বে আর্থিক সংকটে।
নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, হয়তো কিছু সংস্থা বিদেশি অনুদান অপব্যবহার করেছে, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে সামগ্রিকভাবে সব সংগঠন বেআইনি ক্রিয়াকলাপে যুক্ত। বন্যা, ভূমিধস, এমনকি কোভিড-১৯ অতিমারিতেও নাগাল্যান্ডের চার্চ এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা প্রচুর কাজ করেছে। বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং সরকারি প্রশাসনকে সাহায্য করেছে তারা। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মানুষের কল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি, বলেছেন রিও।
নাগাল্যান্ডের দেড়শো বছরের খ্রিস্ট ধর্মের প্রভাব এবং চার্চের ভূমিকা উল্লেখ করে রিও বলেছেন, আন্তর্জাতিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে এই চার্চগুলির সংযোগ রয়েছে। নাগাল্যান্ডে ব্যাপটিস্ট আন্দোলন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপটিস্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক এবং বিভিন্ন ক্যাথলিক চার্চ এবং খ্রিস্টান সংগঠনও ভারত ও বিদেশের অন্যান্য সমধর্মী সংগঠনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। নাগাল্যান্ডের উন্নয়নে কয়েক শতাব্দী ধরে কাজ করছে বিভিন্ন চার্চ এবং খ্রিস্টান স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি নাগাল্যান্ড পূর্ণ রাজ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার আগে আধুনিক পরিকাঠামো প্রায় ছিলই না, উল্লেখ করেছেন রিও।