রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি নিয়ে গড়িমসি কেন রাজ্যের? অসন্তোষ প্রকাশ কলকাতা হাই কোর্টের

34

পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা: রাজনৈতিক কর্মসূচি যে কোন রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। ‌ কিন্তু সেই রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া নিয়ে রাজ্য সরকারের শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। গরিমসি করে দেরি করে অনুমতি খারিজ করায় আদালতের সময় নষ্ট হচ্ছে। কখনো কখনো শনিবার বা রবিবার জরুরি শুনানিতে বসতে হচ্ছে বলে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।

রাজ্য সরকারকে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর নির্দেশ , শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে বার বার আদালতকে আপৎকালীন শুনানির পরিস্থিতিতে ফেলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আদালত একটি নির্দিষ্ট আবেদনের উদাহরণ টেনে রাজ্য সরকারের কাজের ধরন নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেয়। গত ৩ আগস্ট একটি কর্মসূচির জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ৪ দিন ধরে প্রয়োজনীয় সব নথি হাতে থাকা সত্ত্বেও, ৭ আগস্ট রাত সাড়ে ৮ টায় সেই আবেদনের অনুমতি বাতিল করে প্রশাসন।

বিচারপতি রাজ্যকে জিজ্ঞাসা করেন, “৩ আগস্টের আবেদনের উত্তর কেন ৭ আগস্ট রাতে দেওয়া হবে? আগে থেকে কেন স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি? যদি প্রশাসন সময়মতো সিদ্ধান্ত নিত, তবে আবেদনকারীদের শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি আদালতের দ্বারস্থ হতে হত না।”

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, “শুক্রবার নিয়মিতভাবে অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে, আর তার জেরেই শনিবার আদালতকে বসতে বাধ্য হতে হচ্ছে। দয়া করে এটা করবেন না। এর পেছনে কি কোনও পরোক্ষ উদ্দেশ্য রয়েছে?”

পাল্টা রাজ্যের এজি প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে দাবি করেন, আবেদনকারীরা পিটিশনে বেশ কিছু তথ্য গোপন করেছিলেন এবং দেওয়া বক্তব্যও নির্ভুল ছিল না। তাছাড়া, কাজের দিনে প্রায় ২ হাজার মানুষ নিয়ে এ ধরনের জনসভা বা মিছিল করলে বাস্তবে সাধারণ মানুষের জন্য সমস্যা তৈরি হতে পারে। আদালতের নির্দেশ, রাজনৈতিক কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিতে এত সময় লাগানো একেবারেই কাম্য নয় ।‌