ধেমাজির গুলি-কাণ্ডের ৪ দুষ্কৃতীকে চাইছে অসম

30

নিউজ ডেস্ক: ১০ আগস্ট অসম-অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তে ধেমাজির মিংমাং বাদাতি এলাকায় অরুণাচলি পুলিশের পোশাক পরা কয়েকজনের গুলিতে অসমের ১২ যুবক আহত হয়। যারা গুলি চালিয়েছে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। চিহ্নিত চার দুষ্কৃতীকে অসমের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।
অসমের শিক্ষামন্ত্রী রণোজ পেগু বলেছেন, অসম পুলিশ ইতিমধ্যে অরুণাচল প্রদেশের চারজনকে শনাক্ত করেছে যারা গুলি চালিয়েছিল। তাদের আমরা হেফাজতে পেতে চাই। অসমের আরেক মন্ত্রী অতুল বরা ও রণোজ পেগু বৈঠক করেছেন তাকাম মিসিং পোরিন কেবাং, মিসিং মিমাগ কেবাং এবং তাকাম মিসিং মহিলা কেবাং সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে।
ধেমাজির গুলি চালানোর ঘটনার পর গত দুদিন ধরে অরুণাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে আর্থিক অবরোধের ডাক দেয় এই তিনটি সংগঠন। যার জেরে জাতীয় সড়ক অবরোধ, পুলিশ ও সিআরপিএফকে ইটবৃষ্টির ঘটনা ঘটে।
রণোজ পেগু নিজে মিসিং এবং ধেমাজির বিধায়ক। বৈঠক শেষে তিনি বলেছেন, পুলিশের দাবি অনুযায়ী অরুণাচল প্রদেশের চারজন ধেমাজি জেলার মিংমাং পঞ্চায়েত এলাকার বাদাতি গ্রামে গুলি চালিয়েছে। এবং এটা বিতর্কিত জমি সংক্রান্ত সংঘর্ষ নয়। আমাদের রেকর্ড বলছে এটা স্পষ্ট অসমের জমি।
রণোজ পেগু বলেন, চিহ্নিত চারজনের যাবতীয় তথ্য অরুণাচল প্রদেশের পুলিশকে পাঠিয়েছে অসম পুলিশ। চারজনই অরুণাচলের হাইম গ্রামের বাসিন্দা। তাদের নামও অরুণাচল প্রদেশ প্রশাসনকে পাঠানো হয়েছে। তাদের হেফাজতে পাওয়ার আবেদন জানিয়েছে অসম পুলিশ। চিহ্নিত চারজনকে অসমে দেখা গেলেই গ্রেফতার করবে অসম পুলিশ।
চিহ্নিত চার দুষ্কৃতীকে অসমের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছে মিসিং সংগঠনগুলি। একটি সংগঠনের নেতা তিলক দোলে বলেছেন, অসম সরকারের সঙ্গে ইতিবাচক বৈঠক হয়েছে। চার দুষ্কৃতীকে অসমের হাতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তুলে দিতে হবে, না হলে অরুণাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে আর্থিক অবরোধ তীব্র হবে। এইসঙ্গে তিনি জানান, এটা অরুণাচল প্রদেশের সরকারের বিরুদ্ধে অবরোধ, সাধারণ মানুষ কিংবা সামাজিক সংগঠনের বিরুদ্ধে নয়। অরুণাচলের গালো ওয়েলফেয়ার সোসাইিট, গালো ছাত্র সংস্থা এবং আদি ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে এবিষয়ে আলোচনা চলছে, বলেছেন তিলক দোলে।
বৃহস্পতিবার অসম-অরুণাচল প্রদেশের জাতীয় সড়কে মিসিং সংগঠনের কর্মীরা অবরোদ করে শিলাপাথারের লিকাবালিতে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে শূন্যে গুলি চালায় অরুণাচলের পুলিশ। মন্ত্রী রণোজ পেগু বলেছেন, দুটি রাজ্যের পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে চার দুষ্কৃতীর জন্য আমরা গোটা অরুণাচল প্রদেশকে দায়ী করতে পারি না, বলেছেন রণোজ পেগু। মন্ত্রী অতুল বরা বলেন, অসমের ভূমিতে এটা আইনশৃঙ্খলার সমস্যা, এর সঙ্গে অরুণাচল প্রদেশের সঙ্গে জমি বিবাদের কোনও সম্পর্ক নেই।