কাস্ট সার্টিফিকেট নিয়ে বড় নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

29

পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা: গত ১৪মে পশ্চিমবঙ্গের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। বিজ্ঞপ্তিতে ২০১১ সালের পর থেকে রাজ্যজুড়ে ইস্যু হওয়া সমস্ত এসসি, এসটি এবং ওবিসি সার্টিফিকেট পুনর্যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নিয়ে জনস্বার্থ মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। আজ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ ১৪ ই মে- র জাতিগত শংসাপত্রের রাজ্য সরকারের সেই বিজ্ঞপ্তির ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করল।‌

রাজ্য সরকার ১৪ই মে- র বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, জাতিগত শংসাপত্র যদি ভুয়ো প্রমাণিত হয় সেক্ষেত্রে সেই সার্টিফিকেট বাতিল করা হবে। রাজ্যের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়।

মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের আজ সওয়াল করে এজলাসে বলেন, রাজ্যের এই ধরনের কোনও ক্ষমতা নেই শংসাপত্র বাতিল করার।

পাল্টা রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র আদালতে জানান, রাজ্য সরকার ভোটার কার্ড, আধার কার্ড সহ অন্যান্য নথি এবং জাতিগত পারিবারিক বিষয়কে যাচাই করে এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।

প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, জাতিগত শংসাপত্রের বিজ্ঞপ্তির ওপরে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ বজায় থাকবে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসসিএসটি ও ওবিসিদের ক্ষেত্রে কোনও রকম যাচাই করা যাবে না। তবে রাজ্যের কাছে যদি কোনও অভিযোগ আসে, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে জেলার আধিকারিকরা তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন।

ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ঢালাওভাবে বা রুটিনমাফিক কোনো শংসাপত্র পুনর্যাচাই করা যাবে না। তবে প্রশাসন পুরোপুরি হাত-পা গুটিয়ে থাকবে না।

যদি কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুয়ো তথ্য বা জালিয়াতির লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকরা সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবেন।