নিউজ ডেস্ক: ফের দিল্লিতে নিগৃহীত উত্তর-পূর্বের তরুণী। দিল্লির একটি পাঁচ-তারকা হোটেলের সামনে থেকে নাগাল্যান্ডের এক তরুণী ও তাঁর সঙ্গীকে মার্সেডিজ গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল তিন যুবক। রবিবার রাত সাড়ে তিনটেয় দিল্লির চাণক্যপুরী অঞ্চলের ঘটনা।
নয়াদিল্লির একটি পাঁচ-তারকা হোটেলে উত্তর-পূর্ব ভারতের এক তরুণীকে হেনস্থা এবং জোর করে মার্সিডিজ গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তিন যুবকের বিরুদ্ধে।
পুলিশের দাবি, ওই মহিলার বন্ধুরা যখন বাধা দিতে যান, তখন ওই যুবকরা তাঁদের ওপর হকি স্টিক ও লোহার রড দিয়ে হামলা চালায়। চাণক্যপুরী এলাকায় রবিবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই তরুণী বন্ধুদের সঙ্গে হোটেলে গিয়েছিলেন। হোটেল থেকে বেরনোর সময় সাদা রঙের মার্সিডিজ গাড়িতে আসা তিন যুবক তাঁদের পথ আটকানোর চেষ্টা করে এবং ওই তরুণীকে জোর করে গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়।
এক ভিডিয়োতে আক্রান্ত নাগাল্যান্ডের তরুণী বলেন, আমরা ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসছিলাম, তখন তিনজন অপরিচিত ব্যক্তি আমাদের ধরে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে। আমার ডাক্তার বন্ধুরা যখন বাধা দিতে যান, তখন ওই যুবকরা হকি স্টিক ও লোহার রড দিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায়, যার ফলে তাঁরা আহত হন।
তরুণীর অভিযোগ করেন যে, গাড়িটিতে কোনও নম্বর প্লেট ছিল না এবং পুলিশ তাঁর অভিযোগ নথিভুক্ত করতে গড়িমসি করছিল।
তরুণীর দাবি, ওরা গাড়ির নম্বর প্লেট খুলে ফেলেছিল। আমরা পুলিশকে খবর দিই, কিন্তু ওই যুবকরা গাড়ির ভেতরেই বসে থাকে এবং গাড়ি চালিয়ে আমাদের দিকে আসার চেষ্টা করে। আমাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু বারবার ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা সত্ত্বেও পুলিশ শুরুতে কোনও এফআইআর বা অভিযোগ নথিভুক্ত করেনি।
তরুণী আরও বলেন, “আমরা ছিলাম পাঁচজন আর ওরা ছিল তিনজন। আমি নাগাল্যান্ডের বাসিন্দা এবং বহু বছর ধরে দিল্লিতে বসবাস করছি। আমি চাই সত্যটা বেরিয়ে আসুক এবং তাদের গ্রেফতার করা হোক, কারণ এটি হত্যা ও অপহরণের প্রচেষ্টা।
ওই তরুণীকে দিল্লির রামমনোহর লোহিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাঁর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তরুণীর অভিযোগ এবং ডাক্তারি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং ঘটনার অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখছে।
আগস্টে দিল্লিতে একটি স্লিপার বাসে কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল। উত্তরপ্রদেশের মৈনপুরীর বাসিন্দা ওই কিশোরী নয়ডার সেক্টর ৬৩-র দিকে যাচ্ছিল। বাসচালক এবং কন্ডাকটর তাকে ধর্ষণ করে দিল্লির কাশ্মীরি গেট এলাকায় রাস্তায় ফেলে দেয় বলে অভিযোগ। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি দিল্লির স্বরূপনগরে রাস্তার ধারে উদ্ধার হয় এক কিশোরীর ক্ষতবিক্ষত দেহ। তাকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল। সেপ্টেম্বরেই কালকাজি মন্দিরের কাছে একটি পার্কে এক কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্তেরা নিজেদের পুলিশ বলে পরিচয় দিয়ে কিশোরীকে ভয় দেখিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন আবার অতীতে পুলিশের চর হিসেবে কাজ করতেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির প্রেক্ষিতে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে শীর্ষ আদালত। দিল্লিতে মহিলা নির্যাতনের ঘটনাগুলির সঙ্গে নির্ভয়াকাণ্ডেরও তুলনা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। এই ধরনের ঘটনাগুলি পুলিশি ব্যবস্থার ব্যর্থতাকেই তুলে ধরে বলেছিল আদালত।
Prev Post
Next Post