26/11 মুম্বাই হামলার ১৮ বছর পর বড় পদক্ষেপ, ‘ফেরার’ হাফিজ সইদ-সহ ৬ জঙ্গির বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর পথে মুম্বাই পুলিশ

41

নিউজ ডেস্ক: ২০০৮ সালের ভয়াবহ ২৬/১১ মুম্বই হামলার ঘটনায় এবার আরও একধাপ এগোল আইনি প্রক্রিয়া। পলাতক বলে দাবি করা পাকিস্তানের ছয় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার প্রক্রিয়া চালানোর পদক্ষেপ করেছে মুম্বই পুলিশ। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে লস্কর-ই-তইবার প্রধান হাফিজ সইদ, জাকির-উর-রহমান লখভি, সাজিদ মির, আবু আলকামা, আসিম ওরফে আবু কাফা ও মেজর আব্দুর রহমান পাশা।
২৬ নভেম্বর, ২০০৮ সালে সমুদ্র পথ হয়ে ভারতে প্রবেশ করে পাকিস্তানের ১০ জঙ্গি। মুম্বই শহরের একাধিক জায়গায় হামলা চালায় জঙ্গিরা। ১০ হামলাকারীর মধ্যে ন’জন নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়। জীবিত ধরা পড়ে একমাত্র আজমল আমির কাসাব। ২০১২ সালে তার ফাঁসি কার্যকর হয়। কিন্তু হামলার নেপথ্যে থাকা পাকিস্তানি হ্যান্ডলার এবং পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে ভারতের বিচার প্রক্রিয়া এতদিন কার্যত থমকে ছিল। ফের ১৮ বছর পর বড় আইনি পদক্ষেপ, হাফিজ সইদ-সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে শুরু বিচার।
আদালতের তরফে ইতিমধ্যেই ছয় পলাতক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ‘প্রোক্লেমেশন’ জারি করা হয়েছে। সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে ‘ইন অ্যাবসেন্সিয়া’ বা অনুপস্থিতিতে বিচার চালানোর পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী উজ্জ্বল নিকম।

কীভাবে হবে জঙ্গিদের অনুপস্থিতিতে বিচার?
ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা বা BNSS-এর ৩৫৬ নম্বর ধারায় পলাতক অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতেও বিচার চালানোর সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ, অভিযুক্ত বর্তমানে দেশে না থাকলেও আদালতের নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া মেনে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। বিচারে অভিযুক্তরা দোষী সাব্যস্ত হলে আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করতে পারবে। ভবিষ্যতে তাঁদের ভারতে আনা সম্ভব হলে সেই সাজা কার্যকর করার পথও খোলা থাকবে।

অন্যদিকে, ২৬/১১ মামলার অন্যতম অভিযুক্ত আবু জুন্দলকে (জাবিউদ্দিন আনসারি) ২০১২ সালে সৌদি আরব থেকে গ্রেফতার করে ভারতে আনা হয় । বর্তমানে মুম্বাইয়ের একটি জেলে বন্দি সে। এবার পাকিস্তানে থাকা ছয় পলাতক অভিযুক্তের বিরুদ্ধেও তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নিল ভারত।