প্রশ্নের মুখে জ্ঞানেশকুমারের নিয়োগ

20

নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইনের রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি সুপ্রিম কোর্ট। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেব আমরা, বললেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মিশ্র।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মামলার শুনানিতে বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ছেলের নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী হিসেবে কাজ করার বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ সংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইনকে চ্যালেঞ্জ করে যেসব মামলা হয়েছে সেগুলি বৃহত্তর সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানো উচিত কি না সেবিষয়ে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চের রায় ছিল খণ্ডিত। সেই বিভক্ত রায় পুনর্বিবেচনা বা প্রত্যাহার করার) আর্জি বুধবার শীর্ষ আদালত খতিয়ে দেখতে সম্মত হয়েছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর, বিচারপতি দীপংকর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চ বিভক্ত রায় দিয়েছিল। এই মামলায় নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইনে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন প্যানেল থেকে বাদ দেওয়ার বিধান চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। যে আইন হয়েছিল ২০২৩ সালে।
মামলা চলাকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর অনুরোধ করা হলেও বিচারপতি দীপংকর দত্ত তাতে অসম্মতি জানান, অন্যদিকে, বিচারপতি শর্মা বিষয়টি বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানোর পক্ষে মত দেন।
বুধবার, প্রধান বিচারপতি এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি ভি মোহনাকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চের সামনে প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শংকরনারায়ণন এই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই মামলার শুনানির সময় বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ছেলের নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী হিসেবে কাজ করার বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি। এর ফলে বিচারপতি শর্মার নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, শুনানির সময় যদি নির্বাচন কমিশনের স্থায়ী আইনজীবী হিসেবে বিচারপতি শর্মার ছেলের নিযুক্ত থাকার বিষয়টি জানা থাকত, তবে তাঁরা বিচারপতি শর্মাকে এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানাতেন।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং সিদ্ধান্ত নেব।
প্রধান বিচারপতি বলেন যে তিনি জেনেছেন একটি কিউরেটিভ পিটিশন পেশ করা করা হয়েছে।
যে বিচারপতির বেঞ্চ মামলাটিতে বিভক্ত রায় দিয়েছিল, সেই বেঞ্চের অন্যতম সদস্য বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ছেলে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে নির্বাচন কমিশনের স্থায়ী আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত আছেন।
আবেদনে পক্ষপাতিত্ব ও যথাযথ আচরণ নিয়ে যুক্তিসংগত আশঙ্কার বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, বিভক্ত রায় ঘোষণার পরই আবেদনকারী জানতে পারেন যে বিচারপতি শর্মার ছেলে নির্বাচন কমিশনের আইনি প্যানেলের সদস্য।
আবেদনে আরও বলা হয়, কোনও বিচারপতির পরিবারের কোনও সদস্য যদি মামলার কোনও পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন, তবে সেই বিচারপতির পক্ষে ওই মামলার রায় দেওয়া সম্ভব নয়।
আবেদনে আরও যুক্তি দেওয়া হয় যে, সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত পক্ষপাতিত্বের যুক্তিসংগত সম্ভাবনা এবং বাস্তব ঝুঁকির পরীক্ষার নীতি এই মামলার ক্ষেত্রে পুরোপুরি প্রযোজ্য এবং বেঞ্চে বিচারপতি শর্মার উপস্থিতির কারণে ২৩ সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্তটি ত্রুটিপূর্ণ।