নিউজ ডেস্ক: কাজিরঙা জাতীয় উদ্যানের কাছাকাছি পাঁচতারা হোটেল নির্মাণে আইনি কোনও বাধা নেই বলে দাবি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার।
মঙ্গলবার এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সংরক্ষিণ বনাঞ্চলের কাছাকাছি খননকাজ চালানো অবৈধ, নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত, কিন্তু পাঁচতারা হোটেল নির্মাণে কোনও বাধা নেই। হিমন্তর মতে, পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের নিয়ম না জেনে কেউ কেউ হোটেল নির্মাণের বিরোধিতা করছে। কাজিরঙার উন্নয়নের বিরুদ্ধে রাজনীতি করা হচ্ছে।
হিমন্ত বলেন, যারা পারিবেশিক সংবেদনশীল অঞ্চল (ইএসজেড) নীতির বিরোধিতা করছে তারা এবিষয়ে নীতিনিয়ম একেবারেই জানে না। পারিবেশিক সংবেদনশীল অঞ্চলে কোনও উন্নয়ন করা যাবে না, এমন কোনও নিয়ম নেই। খননকাজ, রাসায়নিক কারখানা, দূষণ সৃষ্টি করে এমন শিল্প নির্মাণ করা যায় না পারিবেশিক সংবেদনশীল অঞ্চলে। কিন্তু পাঁচতারা হোটেল নির্মাণে আইনি কোনও বাধা নেই, বলেন হিমন্ত।
হিমন্ত বলেছেন, জিম করবেট এবং গির অরণ্যের আশপাশে প্রচুর হোটেল আছে। কাজিরঙা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্য হয়ে উঠেছে। দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটক আসে। পাঁচতারা হোটেল নির্মাণ হলে অসমের পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন হবে। এইসঙ্গে তিনি বলেন, পারিবেশিক সংবেদন অঞ্চলশীল নিয়ে অযথা বিতর্ক হচ্ছে। প্রসঙ্গত, কাজিরঙায় পাঁচতারা হোটেল নির্মাণের বিরোধিতা করায় পরিবেশকর্মী প্রণব দোলেকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করেছে অসম সরকার।
বিরোধী কংগ্রেসকে বিঁধে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, কংগ্রেস আমলে কাজিরঙায় একের পর এক গন্ডার হত্যা হয়েছে। সেটা কেউ ভুলে যায়নি। বিজেপি সরকার চোরাশিকারিদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করে বন্যপ্রাণকে সুরক্ষিত করেছে। কাজিরঙা থেকে নগাঁওর দিকে একটি করিডোর গড়ে তোলা হয়েছে হাতিদের জন্য, বলেন হিমন্ত।
সম্প্রতি অসম সরকার প্রস্তাব দিয়েছে যে পারিবেশিক সংবেদনশীল অঞ্চল ১০ কিমির পরিবর্তে ১ কিমি করা হবে। তার বিরুদ্ধে কাজিরঙার আশপাশে বিভিন্ন সংগঠন সরব। অসম কংগ্রেসের সভাপতি গৌরব গগৈ এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। উল্টোদিকে, মঙ্গলবার গৌরব গগৈয়ের বিরুদ্ধে কাজিরঙা ও কার্বি আংলংয়ে বিক্ষোভ দেখায় কিছু যুবক।
এপ্রসঙ্গে হিমন্ত বলেছেন, এই বিক্ষোভ স্বাভাবিক। যদি ১০ কিলোমিটারের বিধিনিষেধ থাকে তাহলে কাজিরঙার বাসিন্দারা কোথায় যাবে? প্রশ্ন হিমন্তর। এমনকি আমি যদি ভুল কিছু বলি তাহলে কোহরার বাসিন্দারা আমার বিরুদ্ধেও আন্দোলন করতে পারে।
Next Post