তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে সভার অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ ঋতব্রত শিবির ও কালীঘাট শিবির
পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা: তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে প্রতিবছরের মতো এবছরও সভা করতে চায় ঋতব্রত শিবির। কিন্তু সেই সভা করার অনুমতি দেয়নি কলকাতা পুলিশ। কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। জরুরি ভিত্তিতে আবেদনের শুনানির আর্জি জানানো হয় আজ। কিন্তু বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়ে দেন, জরুরি ভিত্তিতে শুনানি নয়। আগে মামলা দায়ের হবে, তারপরেই শুনানি হবে।
২৮ অগস্ট তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস। এই দিবস পালন নিয়ে ইতিমধ্যেই কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের মধ্যে দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে। ঠিক যেমন একুশে জুলাইকে কেন্দ্র করে হয়েছিল। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে গান্ধী মূর্তির কাছে মেয়ো রোডে সভা করতে চান ঋতব্রত শিবির। পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। কিন্তু, কলকাতা পুলিশ মেয়ো রোডে সভা করার অনুমতি দেয়নি। একই অভিযোগ কালীঘাট শিবিরের ও।
সভার আর ৯ দিন বাকি। পুলিশের অনুমতি না পেয়েই তড়িঘড়ি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁরা। জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানানো হয়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়ে দেন, জরুরি ভিত্তিতে ঋতব্রত শিবিরের আবেদনের শুনানি হবে না। তার কারণ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি রয়েছে। এই মামলা দায়ের হওয়ার পর আগামী শুক্রবার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা।
প্রসঙ্গত, ২১ জুলাই শহিদ দিবসের অনুষ্ঠান নিয়েও তৃণমূলের দুই শিবিরের টানাপোড়েন চলেছে। কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। পরে হাইকোর্টের অনুমতিতে বিড়লা তারামণ্ডল চত্বরে শহিদ দিবস পালন করেছিল কালিঘাট শিবির। আর মেয়ো রোডে শহিদ দিবস পালন করেছিলেন ঋতব্রতরা। কিন্তু বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সভা হওয়া নিয়েও তুমুল বিতর্কে সৃষ্টি হয়।
প্রতি বছর মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশেই টিএমসিপি-র প্রতিষ্ঠা দিবসের সভা আয়োজিত হয়। কিন্তু অন্যান্য বচ্ছরের ছবিটা একেবারে আলাদা । ওই সভায় চোখে পড়ার মতো ভিড় হত। কলকাতা পুলিশকে যান নিয়ন্ত্রণ করতে হতো। দূর দূরান্ত থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা, ভিড় জমাতেন এই সভায়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থাকতেন।
একই সঙ্গে ঋতব্রত শিবিরের পাশাপাশি কালীঘাট তৃণমূলও এবার মেয়ো রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সভা করতে চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করেছিল। কিন্তু, পুলিশ সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি বলে অভিযোগ তুলে কালীঘাট তৃণমূলও হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।
কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে আইনজীবী জানিয়েছেন, সভার অনুমতি চেয়ে গত ২৭ জুলাই চিঠি দেওয়া হয়েছিল পুলিশকে। তার পর গত ৩ অগস্ট ও ৭ অগস্ট পুলিশের কাছ থেকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় অর্থাৎ ফলোআপ করা হয়। কিন্তু, পুলিশের কাছে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। কালীঘাট তৃণমূলের আবেদনের শুনানিও শুক্রবার হওয়ার সম্ভাবনা।
ফলে মেয়ো রোডে তৃণমূলের কোন পক্ষ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সভা করার অনুমতি পায় সেদিকেই নজর সকলের।