চিনির দাম বৃদ্ধির পেছনে কি ই-২০ পেট্রল?

28

নিউজ ডেস্ক: বাজারে চড়চড় করে বাড়ছে চিনির দাম। গুয়াহাটিতে গত দুসপ্তাহে চিনির দাম কেজি-প্রতি ৪৮ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭০ টাকা। বৃদ্ধির হার ৪৫ শতাংশের বেশি। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ৬০ টাকা। বর্তমানে পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দর ৩,২৫০ টাকা। যার অর্থ ৬৫ টাকা কেজি। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে মাল নিয়ে যাওয়ার খরচ এবং মুনাফা। স্বাভাবিকভাবে ক্রেতাদের কাছে কেজি-প্রতি চিনির দাম দাঁড়াচ্ছে ৭০ টাকা।
এক পাইকারি ব্যবসায়ীর কথায়, অসমে চিনি বলতে গেলে তৈরিই হয় না। প্রায় পুরোটাই আনতে হয় মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, কর্নাটক থেকে। চিনির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে ইথানল-বিতর্ক।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে পেট্রলে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মেশানোর অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আবার এই ই-২০ পেট্রল ব্যবহারে গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ। ইথানল তৈরিতে লাগে আখ, চিনির মূল উপদান সেটাই। চলতি বছরে ৩২ লক্ষ মেট্রিক টন চিনি গিয়েছে ইথানল তৈরি করার জন্য। বিরোধীদের অভিযোগ, পেট্রলে ইথানল মেশাতে গিয়ে দেশের খাদ্যসুরক্ষার সঙ্গে আপস করছে বিজেপি সরকার।
আর চিনির দাম বাড়ার সঙ্গে ই-২০ পেট্রল তৈরির কোনও সম্পর্ক নেই, বলছে কেন্দ্র। খাদ্য মন্ত্রকের দাবি, ইথানল তৈরির জন্য চিনির ব্যবহার সময়ের সঙ্গে কমানো হচ্ছে। ২০২২-২৩ সালে ১২ শতাংশ চিনি ব্যবহার করা হত ইথানল তৈরির জন্য। ২০২৫-’২৬ সালে কমে হয়েছে ৯ শতাংশ। এ ছাড়া, তিন-চতুর্থাংশ ইথানল তৈরি হয় ভুট্টা থেকে।
এদিকে, চিনি-সংকট মেটাতে এক দশক পরে বিদেশ থেকে চিনি আমদানির অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে সরকারকে। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ লক্ষ টন চিনি আমদানি করা যাবে। এর জন্য কোনও শুল্ক দিতে হবে না, বিবৃতি কেন্দ্রীয় সরকারের। যদিও মাস ছয়েক আগে ৭ লক্ষ মেট্রিক টন চিনি রফতানি করতে দেওয়া হয়েছে ব্যবসায়ীদের।
অক্টোবর থেকে জুন মাসে চিনি উৎপাদন হয়। ২০২৫-২৬ সালে গোটা দেশে চিনি উৎপাদন হয়েছে ২ কোটি ৭৩ লক্ষ মেট্রিক টন। তার আগের বছর ২ কোটি ৯৩ লক্ষ মেট্রিক টন। ২০ লক্ষ মেট্রিক টন উৎপাদন কমেছে এক বছরে।
এক ব্যবসায়ী বলেছেন, আমদানি করা হবে কাঁচা চিনি। সেটা পরিস্রুত করে খাবারের যোগ্য করে তুলতে অন্তত দুমাস লাগবে। তাই চিনি-সংকট মেটার আশু কোনও সম্ভাবনা নেই।