বিপর্যয়ের জন্য চিনকে দোষারোপ নেপালের

46

নিউজ ডেস্ক: তিব্বত থেকে আসা হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপাল। এবং এজন্য চিনকে দোষারোপ করছে হিমালয়ের পাহাড়ি দেশ নেপাল। চিন আগেই বিপর্যয়ের সতর্কবার্তা দিলে এত প্রাণহানি ঘটত না নেপালে, বলছেন নেপালের বিশিষ্টজনেরা।
যদিও চিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, অভিযোগ করে লাভ নেই, বরং সহযোগিতা করুন, তাহলেই প্রাণ বাঁচবে। প্রলয়ংকরী হড়পা বানে শুক্রবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪৬৯।
নেপালের সংবাদমাধ্যমের অভিমত, রাসুওয়াগাড়ি-গিরোং ক্রসিং এবং গিরোং পোর্ট যখন হড়পা বানে বিপর্যস্ত, তখনই নেপালকে জানানো উচিত ছিল চিনের। নেপালি সাংবাদিক পরশুরাম কাফলে লিখেছেন, নেপাল প্রতিবেশীদের নিরাপত্তায় সবসময় গুরুত্ব দিয়েছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক সত্য হল যে নেপালের উত্তরে যে প্রতিবেশী দেশ রয়েছে, তারা আমাদের বিপাকে ফেলেছে। এই বিপর্যয় নিয়ে আগেভাগে আমাদের সতর্ক করতে পারেনি বলে অনেক প্রাণহানি হয়েছে। এই একতরফা ভালোবাসার মূল্য কেন একা নেপালই চোকাবে? প্রশ্ন কাফলের।
নেপালের যোজনা কমিশনের প্রাক্তন কর্তা গোবিন্দরাজ পোখরেল বলেছে, ধারণা ছিল, গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড পর্যবেক্ষণের জন্য সীমান্তে ভালো ব্যবস্থা আছে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে কিছুই নেই। এরপর পোখরেল বলেছেন, উন্নত উপগ্রহ ব্যবস্থা, প্রযুক্তির মাধ্যমে নেপাল-চিন সীমান্তে সম্ভাব্য প্রাকৃতিক বিপর্যয় সম্পর্কে নজর রাখে বেজিং, এরকমই ধারণা ছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সীমান্ত এলাকায় হড়পা বানের খবর নেই চিনের কাছে। সেজন্যই কাঠমান্ডুকে কিছুই জানাতে পারেনি। এরকম বিপর্যয় কখনো হতে পারে, আমরা কল্পনাও করতে পারিনি।
নেপালের উদ্বেগ, অসন্তোষ, অভিযোগের পর মুখ খুলেছে চিন। চিন দূতাবাস জানিয়েছে, চিনের দিকে বাঁধে বিপর্যয়ের কারণেই নেপালে এই ক্ষয়ক্ষতি বলে যে দাবি, তা ভুয়ো। ২৬ অগস্ট নেপালের দিকেই হিমবাহে ধসের পরিস্থিতি তৈরি হয়। কাদার ধস নামে। তার জেরে রাসুওয়াগাড়ি-গিরং সীমান্ত অঞ্চলে নেপাল এবং চিন, উভয় দেশেরই বহু মানুষ নিখোঁজ। অভিযোগ করে লাভ নেই, সহযোগিতা করুন, তাহলেই প্রাণ বাঁচবে।