মমতা পৌঁছতেই সভামঞ্চে বিশৃঙ্খলা, বিধানসভার বই চুরি ইস্যুতে সরব তিনি, বিজেপি “হাই ভোল্টেজ ভাইরাস” – মঞ্চ থেকে বিজেপিকে বেলাগাম আক্রমণ

61

পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা: ক্যাথিড্রাল রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সভায় বিশৃঙ্খলায। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছতেই বন্ধ হয় সমাবেশ। গার্ডরেল সরিয়ে হাজার হাজার মানুষ মঞ্চের দিকে চলে যান। অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে একাধিক গাড়ি, আটকে যায় অ্যাম্বুল্যান্স। তৃণমূলনেত্রী গাড়িগুলি পাস করিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সমাবেশে গাড়ি ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোই করে মঞ্চ থেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি।

হাইকোর্টের নির্দেশে ক্যাথিড্রাল রোডে সভা করেছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। ১টার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই রাস্তা বন্ধ রেখেই সভা হবে।” ফলে ঠিক একুশে জুলাই এর মতোই আদালতের নির্দেশ মানা হল না এ সভাতেও ।

বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। তারপর থেকে বিজেপি ক্রমাগত অত্যাচার করছে বলে অভিযোগ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার দাবি, ” “কালীঘাটের বাড়ির সামনে প্রতিদিন রাত ১০টায় দুটো পাগল পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমাকে বিরক্ত করতে মাতালদেরও বিজেপি কাজে লাগাচ্ছে”‌ ।

তিনি আরো বলেন “প্রতিদিন রাত ১০টায় দুটো পাগল পাঠিয়ে দিচ্ছে মদ খাইয়ে। গালাগাল দিচ্ছে। মাতালদের কাজে লাগাচ্ছে”

অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে একাধিক ইস্যুতে বিজেপিকে তোপ দাগেন মমতা। বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে মমতা বলেন, “বিজেপি হাইলোডেড, হাইভোল্টেজ ভাইরাস। যেখানে যাবে, সর্বনাশ করবে।”

যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ধরে ধরে বিজেপিকে আক্রমণ করেছেষ তিনি। তাঁর কথায়, “আমরা বিজেপিকে মানি না, জানি না, চিনি না, শুনি না।” যাদবপুর কাণ্ডে পুলিশকেও একহাত নেন মমতা। তিনি বলেন, “আমার সময়ে পুলিশ মানবিক ছিল। আমি এই পুলিশকে চিনি না। মনে রাখবেন ছাতা কিন্তু সবসময় মাথার উপর থাকবে না। আমাকে নাকি বেরতে দেবে না, কত বড় বুকের পাটা।”

বিজেপিকে ‘অত্যাচারী’ বলে ছাত্র যুবদের বুক উঁচু করে লড়াই করার বার্তা দেন মমতা। তিনি বলেন, “রাজনীতি করে ছাত্রদের দমানো যায় না। ছাত্র আন্দোলন হলে বুক পেতে দাঁড়াবেন, বিজেপি হয়ে যাবেন না।”

পুলিশকে কাঠগড়ায় তুলে মমতার বক্তব্য, “আপনাদের পরিবারের উপর অত্যাচার হলে সহ্য করতে পারবেন তো? বেঙ্গল পুলিশকে বিশ্বাস করে না সরকার। না হলে এত কেন্দ্রীয় পুলিশ প্রয়োজন পড়ছে কেন? আমরা কেন্দ্রীয় পুলিশ ছাড়াই ১৫ বছর সরকার চালিয়েছি।”

বৃহস্পতিবার ক্যামাক স্ট্রিটে বিলবোর্ড খোলা নিয়েও পুলিশকে আক্রমণ শানান তিনি। মমতার হুঁশিয়ারি, “আমার বাড়ির সামনে বিজেপির পোস্টার ছেয়ে গেছে, খুলতে পারবেন? বিজেপি দেখলেই পুলিশের ক্ষমতা ৫০ ইঞ্চি।

নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও তীব্র আক্রমণ করেন তিনি । তিনি বলেন, “হানিমুন থেকে মানিমুন, ৪ মাসে সব করেছেন। রামজন্মভূমি থেকে পানিহাটি, কাশী বিশ্বনাথ লুট করেছেন। গদ্দার একবার হলে, চিরকাল হয়। গেরুয়া পরার যোগ্যতা আপনার নেই, গেরুয়া পরে ত্যাগীরা। আমাদের বিরুদ্ধে ১৪ হাজার কেস করেছে। দরকার হলে সুপ্রিম কোর্ট, ইন্টারন্যাশনাল কোর্টে যাব।”

বিধানসভার গ্রন্থাগারের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৯টি বই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে রয়েছে। এখনও ওই বই তিনই ফেরত দেননি, এমনটাই অভিযোগ। তা নিয়েই আজ ফুঁসে উঠলেন মমতা। ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান থেকে কালীঘাট তৃণমূলের সুপ্রিমো বললেন, “প্রমাণ ছাড়া কোনও অভিযোগ করবেন না। আমি চাইলে নিজেই লাইব্রেরি বানিয়ে দিতে পারি।”

তবে, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে ছাত্র-যুবদের জন্য কোনো বার্তা দিলেন না তিনি। মঞ্চে আগাগোড়া রাজনৈতক হুঙ্কার।