ভারতে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমাল নেপাল

60

নিউজ ডেস্ক: ভয়ংকর হড়পা বানের জেরে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে নেপালের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে। অন্তত ১৩টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র বিপর্যস্ত। এর মধ্যে রয়েছে ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন দেবীঘাট জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। এই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় ভারতকে। বিপর্যয়ের পর সেই রফতানির পরিমাণ ৫০ শতাংশ কমিয়েছে নেপাল।
নেপাল থেকে ভারত দৈনিক ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনে। তার পরিমাণ কমে ৪০০ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে নেপালে বিপর্যয়ের পর।
ভারতে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি তত্ত্বাবধানকারী সংস্থা গ্রিড ইন্ডিয়া-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নেপালে বিপর্যয়ের দিন, বুধবার, সেদেশ থেকে ৯৬৩.৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে ভারতে। এটাই এখন কমে দাঁড়িয়েছে ৪০০ মেগাওয়াটে।
হড়পা বানের জেরে নেপালের ১৩টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত। এর মধ্যে আপার ত্রিশূলি, রসুয়াগড়ি, রাসুয়া ভোটে কোশি, সানজেন খোলা, আপার মইলুং, লাইডং খোলা, চিলিমে, দেবীঘাট, আপার ত্রিশূলি-৩এ, আপার ত্রিশূলি ৩বি প্রভৃতি। চিলিমে এবং ত্রিশূলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বাংলাদেশেও বিদ্যুৎ সরবরাহ করে নেপাল। অভ্যন্তরীণ ঘাটতি মেটাতে বাংলাদেশেও বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে নেপাল।
এদিকে, বিপর্যয়ের পর বিদেশ থেকে অর্থ এবং ত্রাণ সাহায্য নিলেও উদ্ধারকাজে বিদেশের কোনও দলকে নিতে রাজি নয় নেপাল। ভারত সহ চিন, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আমেরিকা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেন উদ্ধারকারী দল পাঠাতে চেয়েছিল নেপালে। কিন্তু বলেন্দ্র শাহের সরকার সব দেশকে না করে দিয়েছে। নেপালের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র লোকবাহাদুর ছেত্রী বলেছেন, আমাদের উদ্ধারকারীরা কাজ করছে। উদ্ধারকাজে এখন আমাদের বাইরের কোনও সাহায্য দরকার নেই। উদ্ধারকাজে নেমেছে নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, অসরকারি সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ।
২০১৫ সালে ভূমিকম্পে নেপালে ৯০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। বহু দেশ উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছিল। সেবার উদ্ধারকাজে সমন্বয়ে ব্যাপক অভাব পরিলক্ষিত হয়। এবার হয়তো সেজন্যই বিদেশি উদ্ধারকারী দলকে চাইছে না নেপাল।