নেপালের বিপর্যয়ে আশঙ্কার মেঘ বিহারে

63

নিউজ ডেস্ক: হড়পা বানে নেপালের বিধ্বস্ত অবস্থার পর আশঙ্কার মেঘ ঘনিয়েছে বিহারে। তিব্বত থেকে নেপালে প্রবেশ করে রাসুয়া জেলা দিয়ে বয়ে গিয়েছে ভোটে কোশি নদী। নেপালে প্রবেশের পর ভোটে কোশি নদী গিয়ে মিশেছে কোশি নদীতে। এবং সেটাই বিহারে প্রবেশ করেছে। এজন্যই নেপালে বিপর্যয়ের পর বিহারের ক্ষেত্রে আশঙ্কার কারণ রয়েছে।
বিহারের কোশি নদীর জলস্তর বাড়ছে বলে একাধিক ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়েছে। যদিও তার সত্যতা কেউ যাচাই করেনি। হিমালয় থেকে নেমে আসা নদীগুলোর গতিপথ দেখলেই স্পষ্ট তিব্বত ও বিহারের মধ্যে যোগসূত্র বেশ গভীর। একাধিক নদী দুই অঞ্চলকে এমনভাবে যুক্ত করেছে, যার প্রভাব বিহারেও পড়তে পারে।
তিব্বতের হিমালয় অঞ্চলে উৎপন্ন ভোটে কোশি নদী নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কোশি নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তিব্বত ও নেপালের পার্বত্য এলাকা থেকে বরফগলা জল, বৃষ্টির জল এই নদীর প্রবাহকে শক্তিশালী করেছে।
কোশি নদী নেপাল থেকে ভারতের বিহারে প্রবেশ করে এবং রাজ্যের বিস্তীর্ণ সমতলভূমির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। কোশির গতিপথ বারে বারে পরিবর্তিত হয়েছে।
তিব্বতীয় হিমালয় অঞ্চলে উৎপন্ন ভোটে কোশি নদী নেপালে প্রবেশ করার পর সুন কোশি নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। সুন কোশি নেপালের অন্যতম প্রধান নদী। তিনটি বড় নদী অরুণ, তামুর, সানকোশি এবং অপেক্ষাকৃত ছোট নদী দুধকোশি, তামাকোশি, ভোটে কোশি এবং ইন্দ্রাবতী একত্রিত হয়ে গঠিত হয়েছে সপ্ত কোশি নদীপ্রণালী। এর পর সপ্তকোশি নদী ভারতে প্রবেশ করেছে। এটি কোশি নাম নিয়ে উত্তর বিহারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কাটিহার জেলার কুরসেলার কাছে গঙ্গার সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
ফলে তিব্বতের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে শুরু হওয়া জলপ্রবাহের সঙ্গে নেপাল ও বিহারের নদীব্যবস্থার একটি সরাসরি ভৌগোলিক যোগসূত্র রয়েছে। উচ্চ হিমালয় অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত বা আকস্মিক বন্যা হলে তার প্রভাব ভারতের বিহারের মতো ভাটির এলাকাতেও পড়তে পারে।
বিধ্বংসী বন্যার ইতিহাসে কোশি নদীর ‘কুখ্যাতি’ আছে। এই নদী ‘বিহারের দুঃখ’ নামে পরিচিত। গতিপথও বার বার পরিবর্তন করেছে কোশি। সুপল, সহরসা, মাধেপুরা, আরারিয়া এবং পূর্ণিয়া জেলা এজন্যই বন্যার কবলে পড়েছে একাধিক বার।
নেপালে বিপর্যয়ের পর বিহারের কোশি ব্যারেজ থেকে কয়েক লক্ষ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। কোশি নদীর নিম্ন অববাহিকা অঞ্চলে বর্ষাকালে প্রায় প্রতি বছরই বন্যার আশঙ্কা থাকে। উত্তর বিহার দীর্ঘ দিন ধরেই কোশি নদীর কারণে অন্যতম বন্যাপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
তিব্বত-নেপালের নদীপ্রবাহ ত্রিশূলি-নারায়ণী-গণ্ডক নদী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ভাটির দিকে বিহারেও জলস্তর বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।