দিল্লিতে ভেঙে পড়ল বাড়ি, নিহত ৭

21

নিউজ ডেস্ক: দিল্লির চাণক্যপুরীর মোতি বাগ এলাকায় ছাত্রদের মেসবাড়ি ভেঙে মৃত্যু হয়েছে অন্তত সাতজনের। ১১ জন গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহত ১০ জনকে এমস ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখনও চলছে উদ্ধারকাজ। ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ কেউ আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা। ছয় তলা সত্য নিকেতন নামের ওই বাড়িতে ‘পেইং গেস্ট’ হিসেবে মূলত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা থাকতেন। বাড়িটি অন্তত ৫০ বছরের পুরনো বলে দাবি স্থানীয়দের।
রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ মোতি বাগ এলাকায় ধসে পড়ে ওই বহুতলটি। সেসময় বাড়ির ভেতরে প্রায় ৪০-৫০ পড়য়া ছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। ভবনটি যখন পড়ার সময় বেসমেন্টে মেরামতির কাজ চলছিল। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকদিনের বৃষ্টির ফলে ওই ভবনের বেসমেন্টে জল জমার ফলে বাড়ির ভিত দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। ভবনের মালিক হরিরাম বনসলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কয়েক মাস আগেও বাড়িটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়েছিল। এই মেসবাড়ির কাছেই দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। আহত ও নিহতদের অধিকাংশই কেরলম, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। এ ছাড়া, ক্যান্টিনের এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
মেসবাড়ি ভেঙে পড়ার পর দিল্লি পুরসভা বিবৃতি দিয়েছে যে চারতলার চেয়ে উঁচু সব অবৈধ নির্মাণ জরুরি ভিত্তিতে সিল করা হবে। দিল্লি পুরসভার এক কর্তার মতে, ৫৫ বর্গগজ জমির ওপর নির্মিত ভবনটি প্রায় ৫০ বছরের পুরনো। অনুমতি ছিল দোতলা বাড়ি বানানোর। কিন্তু সেটি বহুতল করা হয়। ভবনটিতে ১৫টি কামরা ছিল এবং প্রতিটিতে দুই থেকে তিন জন করে ছাত্র থাকতেন। শয্যা প্রতি ভাড়া নেওয়া হত ১৮ হাজার টাকা। বাসিন্দারা মূলত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ মতিলাল নেহরু কলেজ, আত্মারাম সনাতন ধর্ম কলেজ ও শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর কলেজের পড়ুয়া। বাড়িটির কোনও অনুমোদিত নকশা ছিল না। বেসমেন্টে চলা নির্মাণ বা সংস্কারের কাজেরও অনুমতি ছিল না।
সিসি ক্যামেরার যে ফুটেজে দেখা গিয়েছে ভবনটি ধূলিসাৎ হতে চার থেকে পাঁচ সেকেন্ড লেগেছে। উলটোদিকে এক দোকানি বসেছিলেন। তিনি কিছু শুনতে পেয়ে ওপরদিকে তাকান। মুহূর্তের মধ্যে হুড়মুড় করে বাড়িটি ভেঙে পড়ে। ওই এলাকায় কয়েকটি গাড়ি পার্ক করা ছিল। দুর্ঘটনার অভিঘাতে সেগুলি গুঁড়িয়ে গিয়েছে।
দিল্লির বহুতল ভেঙে পড়ায় নিহতদের অধিকাংশই ছাত্র। দেশজুড়ে পড়ুয়াদের সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন সভা করছেন রাহুল গান্ধী। এই ঘটনায় সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেছেন, পড়ুয়াদের জীবন এমনিতেই নানা প্রতিকূলতায় পূর্ণ। এখন তাঁদের জীবনের জন্যও বিষয়টি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে হস্টেলের পর্যাপ্ত সুবিধা না পেয়ে পড়ুয়ারা মেসবাড়িতে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। সেখানে প্রায়শই অমানবিক পরিবেশে কখনো কখনো একই ছাদের নীচে ৪০ জনকে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। প্রত্যেক পড়ুয়ার জীবন অমূল্য। যে কোনও উপায়ে তা রক্ষা করতেই হবে।
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেছেন, বিভিন্ন রাজ্যে বড় বড় বিজেপি ভবন তৈরি করা হচ্ছে। অথচ, পড়ুয়াদের অসুরক্ষিত জায়গায় থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। এটা একটা ভবনের প্রশ্ন নয়, এটা দেশের তরুণ প্রজন্মের নিরাপত্তার প্রশ্ন।
প্রসঙ্গত, রবিবার গোয়ায় বিজেপির নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন কমর্সূচি স্থগিত রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।