আশ্রয় শিবিরে ২৫ জনের মৃত্যু মণিপুর সরকারকে ভর্ৎসনা আদালতের

38

নিউজ ডেস্ক: মণিপুরের বিভিন্ন ত্রাণশিবিরে ২৫ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে উদ্বেগ শীর্ষ আদালতের। অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা মধ্যে রয়েছে যৌন নির্যাতনের অভিযোগও। সুপ্রিম কোর্টে মণিপুরের মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়েছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে। এই প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ ও পরিস্থিতি এবং ঘরহারা মানুষদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা উল্লেখ করতে হবে।
২০২৩ সালে মণিপুরে জাতিদাঙ্গার জেরে যৌন নির্যাতনের ঘটনার তদন্ত ও বিচার সংক্রান্ত একগুচ্ছ আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মিশ্র, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি মোহনার বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি গীতা মিত্তলের নেতৃত্বাধীন কমিটির প্রতিবেদন বিবেচনা করেছে শীর্ষ আদালত। প্রতিবেদনে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সুপ্রিম কোর্ট মণিপুরের মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়েছে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ২৫টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার বিস্তারিত তথ্য, সেই সঙ্গে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও মৃত্যুর কারণ নির্দেশকারী অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য। এ ছাড়া, ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত মানুষদের সুরক্ষায় কী কী প্রতিকারমূলক ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, সে বিষয়েও রাজ্যকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, আশ্রয়শিবিরে বসবাসকারীদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যবস্থা করতে হবে। আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একটি প্রতিবেদনে আটটি জেলার ত্রাণশিবিরে ৬৪০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
খবর অনুযায়ী, মাত্র ২০টি ক্ষেত্রে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে এবং ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া, এসব ঘটনায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে মাত্র ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
শীর্ষ আদালত মণিপুর সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে এটা ব্যাখ্যা করতে যে, কেন মাত্র ২০টি ক্ষেত্রে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে এবং কেন এত সামান্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। মণিপুর লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিষয়টি অবিলম্বে হাতে নিতে এবং নিশ্চিত করতে যে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর সব ঘটনায় যেন এফআইআর দায়ের করা হয়, মৃত্যুর কারণ যেন যথাযথভাবে নির্ণয় করা হয়, ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি ও ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং ইতিমধ্যে দায়ের করা এফআইআর-এর তদন্ত যেন দ্রুততার সঙ্গে শেষ করা হয়।
ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের মধ্যে ২৫ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়ে ৪ জুলাই কমিটি যে তথ্য চেয়েছিল, সে ব্যাপারে আদালত মণিপুরের অ্যাডভোকেট জেনারেলের কাছেও কৈফিয়ত তলব করে। প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের নির্দেশ দিয়ে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, আপনার মুখ্যসচিবকে বলুন যেন তিনি আদালতের কঠোর নির্দেশ বা আদেশ ডেকে না আনেন। আপনারা কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা আমাদের জানান।
মামলার অগ্রগতির বিষয়ে আদালতকে অবহিত করা হয়। শুনানিতে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি বেঞ্চকে জানান যে, ৩,০২০টি মামলার তদন্তের জন্য আটটি জেলায় ৪২টি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০২টি মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে, ১,৫৮৩টি মামলার ক্ষেত্রে ক্লোজার রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে এবং ১,১৩৫টি মামলার তদন্ত এখনও চলছে।