১৯ বছর পর কেন তদন্তকারী অফিসার পদক্ষেপ নিলেন? নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীর মামলায় প্রশ্ন বিচারপতির
পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের স্বস্তি। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া খেজুরি মামলায় আগামী ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ করবে না পুলিশ৷ ২০০৭-এর খেজুরী থানার মামলায় গ্রেফতার দেখানো যাবে না নির্দেশ বিচারপতির। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য বুধবার এই মামলায় মিলন প্রধানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল ।
নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা হয়েছে বুধবার । ২০০৭ সালের মামলায় আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে কাঁথি মহকুমা আদালত। অন্য দিকে, তাঁর বিরুদ্ধে বাকি ছ’টি মামলায় যাতে কোননও পদক্ষেপ করা না হয়, সে নিয়ে আজ মামলার শুনানি ছিল।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর পর্যবেক্ষণ, “এটা অবাক লাগছে, ২০০৭ সালে অভিযোগ আর ১৯ বছর পর তদন্তকারী অফিসার পদক্ষেপ করলেন!” প্রশ্ন করেন বিচারপতি।
মিলন প্রধানের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে জানান, ” বুধবার ফের নতুন খেজুরি মামলা দেওয়া হয়েছে। অথচ আগের দিন এবিষয় কিছুই জানানো হয়নি।”
রাজ্য তরফে পাল্টা বলা হয়, “এটা গতকাল নয়, ভুল তথ্য । আমাদের রিপোর্টে উল্লেখ আছে। ১৯ সেপ্টেম্বর এই মামলা ছিল।”
তখন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, “না, আমরা কোন রিপোর্ট পাইনি। তাহলে উল্লেখ হত।”
বিচারপতিই তখন পাল্টা প্রশ্ন করেন, “২০০৭ সালের অভিযোগ। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল, তারপরও এত বছর কী করছিলেন?”
রাজ্যের আইনজীবী অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার মিলন প্রধানের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “সেসময় রাজ্য আপনাদের পাশে ছিল। তদন্তকারী অফিসার নতুন। তৎকালীন রাজ্য সরকার চায়নি এই বিষয়ে তদন্ত হোক”।
পাশাপাশি রাজ্যের এএজি এই মামলাগুলির বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ করছেন না আদালতে জানান। বিচারপতিও আরও একবার এই বিষয়টি স্পষ্ট করে দেন।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ, আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন মামলায় মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করতে পারবে না। এমনকি ওই মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো যাবে না।