নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদের পরিণাম ভোগ করতে হবে, রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চ থেকে পাকিস্তানকে তোপ ভারতের। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের প্রতিনিধি পেটাল গেহলট বলেন, আমরা গত বছরই দেখিয়ে দিয়েছি যে, সন্ত্রাসবাদীদের পালিয়ে যাওয়ার বা লুকিয়ে থাকার কোনও জায়গা থাকবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষার অধিকার আমরা প্রয়োগ করব। আর পাকিস্তানের অব্যাহত সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের পরিণাম ভোগ করতে হবে।
এর আগে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চ থেকে ভারতের সঙ্গে ২০২৫ সালের সংঘাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপের প্রশংসা করেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, একইসঙ্গে তিনি আবারও কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন।
নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে ভারত।
ভারতের ‘জবাব দেওয়ার অধিকার’ প্রয়োগ করে কূটনীতিক পেটাল গেহলট শরিফের মন্তব্যকে অদ্ভুত বলে অভিহিত করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেনকে পাকিস্তানেই পাওয়া গিয়েছিল।
পেটাল বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৯/১১ হামলার বার্ষিকী পালন করেছে। অথচ এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান অ্যাকাডেমির ঠিক দোরগোড়ায় বসবাস করছিল।

সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানের দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে ভারত বলে যে, পাকিস্তান দিনের বেলায় নিরাপত্তা রক্ষার দাবি করে আর রাতে সন্ত্রাসবাদ চালায়।
রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর বলেন, একটা সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে প্রশ্ন করছে! ওই সাংবাদিক জানতে চেয়েছিলেন, ভারত সরকার কবে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ করবে।
জবাব দেওয়ার পরই মন্ত্রী ও অন্যান্য প্রতিনিধি আসন ছেড়ে বেরিয়ে যান, অথচ ওই সাংবাদিক তখনও তাঁর আক্রমণাত্মক বক্তব্য চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগামে ২৬ নাগরিকের প্রাণহানির ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে, পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ভারত ৭ মে ‘অপারেশন সিদুঁর’ শুরু করেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, এমনকি এই সপ্তাহে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণেও যে তিনিই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ থামিয়েছিলেন। তবে নয়াদিল্লি বরাবরই কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের বিষয়টি অস্বীকার করে এসেছে।
রাষ্ট্রসংঘে ভারত আহ্বান জানিয়েছে সবাই যেন পাকিস্তানের প্রকৃত রূপ ও নীতিগুলোকে চিনতে পারে। বছরের পর বছর ধরে মিথ্যা কথা বললেই তা সত্য হয়ে যায় না। পাকিস্তানের এই দ্বিমুখী আচরণ ও প্রতারণা তার নিজের বা বিশ্বের, কারো কোনো উপকারে আসবে না, বলেন পেটাল গেহলট।