বন্যাত্রাণ নিয়ে বিক্ষোভ, আটক রাইজর দলের কর্মী

42

নিউজ ডেস্ক: বন্যাত্রাণে বিলম্ব, অনিয়ম নিয়ে বিক্ষোভ রাইজর দলের। শুক্রবার থেকে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করেছেন রাইজর দলের প্রধান অখিল গগৈ। শনিবার সেই বিক্ষোভে অংশ নিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন রাইজর দলের বিভিন্ন নেতা।


গুয়াহাটিতে জনতা ভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় পুলিশ জ্ঞানশ্রী বরা, রাসেল হোসেন, ভাস্কো দে শইকিয়া ও ধৈর্য কোঁয়র সহ রাইজর দলের বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করে।


বিক্ষোভকারীরা দাবি জানাচ্ছিলেন যে, সরকার যেন বন্যার্তদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। পুলিশের গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় এক ভিডিয়ো বার্তায় জ্ঞানশ্রী বরা বলেছেন, বন্যার্তদের জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তার দাবিতেই তাঁরা সমবেত হয়েছিলেন।


এদিকে, অসম বিধানসভা চত্বরে অখিল গগৈয়ের অবস্থান-বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে রাইজর দলের প্রধান দ্রুত ত্রাণ সহায়তা প্রদান এবং ব্যাপক বন্যার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।


শিবসাগরের বিধায়ক অখিল গগৈ জানান যে, উজান অসমে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তিনি ফের রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। জনতা ভবনের বাইরে বিক্ষোভরত তাঁর দলের নেতাদের আটকের তীব্র সমালোচনা করেছেন অখিল।


বন্যার্তদের অবিলম্বে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং এই ধ্বংসলীলার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের দাবিতে অখিল গগৈ অসম বিধানসভা চত্বরে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এবছর বন্যায় ১০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।


গুয়াহাটিতে ‘রাইজর দল’-এর নেতাদের আটকের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অখিলের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের দমনে পুলিশ যতটা তৎপরতা দেখিয়েছে, বন্যার্তদের কাছে পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছনোর ক্ষেত্রে ততটা তৎপরতা দেখা যায়নি।


অখিলের দাবি, বন্যাবিধ্বস্ত বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা মূলত নিজেদের উদ্যোগেই এই সংকট সামাল দিয়েছেন এবং তাঁদের প্রচেষ্টা না থাকলে মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারত।


পাশাপাশি, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অখিল গগৈ এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।


অখিল গগৈ বলেন, বন্যার ভয়াবহতার কারণেই তিনি সরাসরি রাজপথে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।