অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা প্রত্যাহার নিয়ে রাজ্যের থেকে রিপোর্ট তলব কলকাতা হাইকোর্টের

42

পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর অতিরিক্ত সমস্ত নিরাপত্তা সরিয়ে দেয় রাজ্য সরকার। জেড প্লাস সরানোর পর কেন্দ্রীয় সরকারের যে নিরাপত্তা সকল সাংসদরা পেয়ে থাকেন সেইটুকুই রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর সম্প্রতি বাড়ির সামনে সরিয়ে ফেলা হয় পুলিশ কিয়স্ক। কলকাতা হাইকোর্টের একক বেঞ্চের দ্বারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়‌।‌

হোম গার্ড ছাড়া আর কোনও নিরাপত্তা নেই, নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন তিনি। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিরাপত্তা চেয়ে দ্বারস্থ হয়েছিলেন । আজ মামলার শুনানি ছিল । সেই মামলায় রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চাইল বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।‌

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শঙ্করনারায়ণ বলেন, “২০১৩ সালে তাঁকে ওয়াই ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে দেওয়া হয় ওয়াই + , ২০১৫ সালে তিনি জেড ক্যাটাগরি এবং ২০১৬ সালে জেড + ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পায়, পালাবদলের পর এই নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয় কোনও রকম নোটিস ছাড়াই । জেড প্লাস থেকে একধাক্কায় নিরাপত্তার মাত্রা এক্স ক্যাটাগরিতে নামানো হয়।
মাত্র ২ জন নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া হয়। নিরাপত্তা কমানোর পর সোনারপুরে হামলা চলে। আগে থেকে জানানো সত্ত্বেও কলকাতা পুলিশের মাত্র ২ জন আধিকারিক ছাড়া আর কোনও নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি। “

আইনজীবী এও উল্লেখ করেন

“আবেদনকারীর ওপর আরও ৪টি পৃথক হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিমানবন্দরেও একবার তাঁকে আক্রমণ করা হয়েছিল, যেখানে একজন হামলাকারীর হাতে রিভলভার ছিল। তাঁর ডায়মন্ড হারবার এবং ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয়েও হামলা হয়েছে। অতীতে তাঁর চোখে গুরুতর আঘাতের ইতিহাস রয়েছে।”

নিরাপত্তা নিয়ে বিচারপতি প্রশ্ন করেন রাজ্যকে , “নিরাপত্তা প্রত্যাহারের নির্দেশ কোথায়? এত তাড়াহুড়ো করে কেন নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হল? ৪টি হামলার ঘটনার দায় কে নেবে? যদি পাথর লাগত ফলাফল কী হত?”

রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। ১৩ই অক্টোবর এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা।