চোরবাগান কাণ্ডে সরব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

23

পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: চোরবাগানে পদপিষ্টের ঘটনায় কেটেছে ১২ দিন। ১৯ জনের মৃত্যু। কিন্তু তদন্ত কোন পথে হচ্ছে? তদন্তে কোনও স্বচ্ছতা পাওয়া গেল কী? প্রশ্ন তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনায় বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা, দলের জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ এবং দেবদীপ অধিকারীর ভূমিকা খতিয়ে দেখে তাঁদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি তুলে নাম করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলেন তিনি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ থাকলেই সব দোষ ক্ষমা? অভিযুক্তরা কী আইনের ঊর্ধ্বে? তদন্তে রাজনৈতিক প্রভাব বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে ? চোর বাগানের ঘটনায় সাত বছরের এক শিশু-সহ ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দায় কার ? এই ঘটনায় কোনও রকম আপস করা চলবে না বলেই তাঁর দাবি।

তদন্তের দায়িত্বে থাকা সিট- এর কাছে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, কয়েকজ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেই এত মৃত্যুর দায় এড়ানো সম্ভব নয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

চোরবাগান কাণ্ডে আয়োজকদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত কতদূর এগিয়েছে বলে প্রশ্ন করেন তিনি। আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা, প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দলের জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দেবদীপ অধিকারীর নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁদের কেন এখনও গ্রেফতার বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি, সেপ্রশ্নও তোলেন।

রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে অভিযুক্তদের আড়াল করলে পরে বিপদে পড়তে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। যাঁরা প্রভাব খাটিয়ে কাউকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের সতর্ক করে তাঁর বার্তা, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়।

বুধবার সন্ধেয় গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল ঘনিষ্ট ইন্দ্রনীল সেন। তাঁকে নিয়ে চর্চার মাঝেই চোরবাগান নিয়ে আজ সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পোষ্ট ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।