নিউজ ডেস্ক: ষষ্ঠদশ বিধানসভা অধিবেশনের বুধবার ছিল শেষ দিন। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা UCC নিয়ে বিধানসভা ফ্লোরে বিস্তৃত আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ইউসিসি নিয়ে বক্তব্য পেশ করেন। গত সোমবার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অতুল বরা বিধানসভা ফ্লোরে বিলটি পেশ করেন। এদিন অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে উত্তাল হয় অসম বিধানসভার শেষ দিনের অধিবেশন। বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পক্ষে সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে বিধানসভার বিরোধী উপ-দলনেতা ডঃ জয়প্রকাশ দাসের প্রশ্ন, মহিলাদের সম-অধিকারের কথা বলা হলেও জনজাতিরা UCC-র বাইরে কেন? অন্যদিকে, UCC-র বিরোধিতা করে ওয়াকআউট করেন অসমের একমাত্র তৃণমূল বিধায়ক শেরমান আলি।
এদিন UCC নিয়ে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী ড০ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। ‘ইউসিসি-র মাধ্যমে রাজ্যের প্রত্যেক মেয়েকে সুরক্ষা দেওয়ার কাজ হয়েছে’। বিধানসভায় মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার। এদিন বিধানসভায় ‘লিভ ইন রিলেশনশিপ’ নিয়ে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী ড০ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। শীর্ষ আদালত লিভ ইন রিলেশনশিপে স্বীকৃতি দিয়েছে। ‘লিভ ইনে যদি সন্তান জন্ম হয়, তার দায়িত্ব কে নেবে?’ প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রীর। এদিন বিধানসভা ফ্লোরে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সন্তান জন্ম হলে নবজাতককে মা বাবার নাম দিতে হবে’। ‘সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হলে ভুক্তভোগী মেয়েটি আদালতে গিয়ে নিজের অধিকার দাবি করতে পারবে’। শুধু তাই নয়, একটা সময় একটি লিভ ইন রিলেশনশিপই থাকতে পারবে। বহুগামিতা করা যাবে না। লিভ ইনে থাকলে বান্ধবীর প্রতি দায়িত্ব থাকতে হবে। মন্তব্য হিমন্তের।
লিভ ইনে এক মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রার করা বাধ্যতামূলক। মেয়েটির বয়স ২১ বছরের নিচে হলে সেক্ষেত্রে পুলিশ বাবা মাকে খবর দেবে। মা বাবার সম্মতি থাকলে প্রশাসন কিছু করবে না। ১৮ বছরের নিচে ‘লিভ ইন রিলেশনশিপে’ অনুমতি নেই।
প্রসঙ্গক্রমে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অসমের প্রত্যেক মহিলাকে সম্মান জানাতেই ইউসিসি গৃহীত হয়েছে। দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, স্ত্রীর মর্যাদা একেকটি নারীর সত্তাকে ধ্বংস করে। সেইসব মহিলাদের শ্রদ্ধা জানাতেই ইউসিসি প্রয়োজন রয়েছে। যেসব মেয়েদের ১৮ বছর হওয়ার আগেই যে সব মা বাবারা নিজের মেয়েকে বিয়ের বন্ধনে বসতে বাধ্য করে তাদের জন্য এই ইউসিসি।
যে সব মেয়ে মা বাবার সম্পত্তির ভাগ পায় না তাদের জন্য ইউসিসি শ্রদ্ধাঞ্জলি। ১৬তম অসম বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে UCC-র গ্রহণের মাধ্যমে অসমের নারী শক্তির বন্দনা করা হয়েছে। হিমন্তের কথায়, আগামী পাঁচ বছরে এর থেকে বেশি ভাল কাজ আর হতে পারে না। গ্যাসের দাম পরিবেশের সঙ্গে সরকার কমাতে বাড়াতে পারবে। কিন্তু কন্যা সন্তানদের হারানো সম্মান ফিরিয়ে দিতে পারবে না, তাই ইউসিসি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি এও বলেন, ২০২৬এর নির্বাচনে অসমে সবচেয়ে বেশি সমর্থন জানিয়েছে নারী শক্তি।
ভারতের তৃতীয় রাজ্য হিসেবে অসম এক বিরল গৌরবের অধিকারী হবে। দেশের প্রত্যেক রাজ্যকে ইউসিসি গ্রহণ করার আহ্বান হিমন্ত বিশ্ব শর্মার। এদিন ইউসসি-র বিরোধীতা করে ফ্লোর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মন্দিয়ার তৃণমূল বিধায়ক শেরমান আলি। তাঁর কথায় বাল্য বিবাহ, বহু বিবাহ বন্ধে সমর্থন করছি। তবে বিলটিতে বহু অপ্রয়োজনীয় বিষয় সংযোগ করা হয়েছে অভিযোগ তৃণমূল বিধায়কের। সংখ্যার জোরে বিলটি গৃহীত হওয়ার অভিযোগ আনলেন তিনি। এই বিল মুসলমানদের ধর্মীয় আবেগে আঘাত হেনেছে। এই বিলের মাধ্যমে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। মন্তব্য শেরমান আলির।
যদিও বিরোধীপক্ষের এই দাবিকে নস্যাৎ করে মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা দাবি, ক্ষমতায় এলে আমরা প্রথমেই এই বিল নিয়ে আসবো, নির্বাচনের আগে এমন প্রতিশ্রুতি ছিল বিজেপির। বিধানসভা নির্বাচনে অসমের ভোটাররা বিজেপিকে বিপুল ভোটে জিতিয়ে সেটাই চেয়েছেন। আর তাই এই বিল মানে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি অত্যন্ত সময়োচিত, বলছেন মুখ্যমন্ত্রী
‘মহিলাদের সম-অধিকার রক্ষায় কবজের মতো কাজ করবে UCC’। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে নিয়েই আপত্তি প্রকাশ করেন নাওবৈসার কংগ্রেস বিধায়ক জয়প্রকাশ।