স্বাস্থ্য পরিষেবায় নগর-গ্রাম বিভাজন

13

নিউজ ডেস্ক: অসমে স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে ক্রমশ চওড়া হচ্ছে শহর ও গ্রামের ব্যবধান। যোরহাটের এক মহিলা জানিয়েছেন, আমার প্রসব বেদনা শুরু হয়েছিল রাত সাড়ে এগারোটায়। সহায়তার জন্য সব জায়গায় ফোন করার পর অ্যাম্বুল্যান্স এসেছিল ভোর পৌনে পাঁচটায়। ততক্ষণে ঘরেই আমার শিশু জন্ম হয়ে গেছে।
অসমে স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের ব্যবধান স্পষ্ট হয়েছে রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং সেনসাস কমিশনার অব ইন্ডিয়া প্রকাশিত স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (২০২৪) রিপোর্টে। দেশে শিশুমৃত্যুর ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের ব্যবধান সবচেয়ে বেশি অসমে। শহরে শিশুমৃত্যুর হার প্রতি এক হাজারে মাত্র ১৪, কিন্তু সেটাই অসমের গ্রামাঞ্চলে গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি হাজারে ৩১। যার অর্থ শহরের তুলনায় গ্রামে শিশুমৃত্যুর হার দ্বিগুণেরও বেশি।
অসমে শহর ও গ্রামের এই ফারাক সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যুর ক্ষেত্রেও স্পষ্ট। অসমের গ্রামাঞ্চলে প্রতি এক হাজার সদ্যোজাতের ক্ষেত্রে মৃত্যু হার ২১ আর শহরে এই সংখ্যা ১২। জন্মের প্রথম সাত দিনের মধ্যে মৃত্যু গ্রামাঞ্চলে ১৫ আর শহরে আট। শহরের তুলনায় গ্রামে জন্ম পূর্ববর্তী শিশুর মৃত্যুহারও দ্বিগুণ।
গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অভিনব ভট্টাচার্য বলেছেন, অধিকাংশ গ্রামাঞ্চলেই হাসপাতালে অনিয়মিত যাওয়া এবং সর্বক্ষণের নজরদারির অভাব দেখা যায়। যদিও সম্প্রতি অনেক জায়গায় স্বাস্থ্যকর্মী লভ্য, কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রয়োজনের সময় তাঁদের নাগাল পাওয়া সত্যিই অসুবিধাজনক। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরাও উন্নত হাসপাতাল দূরে বলে যেতে চান না, ঘরের কাছে যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান সেখানে হয়তো উপযুক্ত পরিকাঠামো পান না, জানিয়েছেন ডাক্তার অভিনব ভট্টাচার্য।
সম্প্রতি মঙ্গলদৈয়ের এক প্রসূতিকে রেফার করা হয়েছিল গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজে। গুয়াহাটি আসার পথে অ্যাম্বুল্যান্সেই মৃত্যু মা ও গর্ভস্থ সন্তানের। অভিনব ভট্টাচার্য বলেছেন, এরকম ঘটনা পরিবহণ সমস্যা, আধুনিক পরিকাঠামো এবং সরঞ্জামে অভাব ঘটছে।
কিছু ডাক্তারের মতে, সচেতনতা, দুর্বল পুষ্টি এবং শিক্ষার অভাবও গ্রাম-শহরের ব্যবধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কারণ। শহুরে মা-বাবা সন্তানের সামান্য জ্বর হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেন, কিন্তু গ্রামাঞ্চলে এই সচেতনতা অভিভাবকদের মধ্যে প্রায় দেখা যায় না। বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও অনেক পরিবার শিশুকে নিয়ে যান না, বলেছেন যোরহাটের এক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ।
স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম রিপোর্টে প্রকাশ গ্রামাঞ্চলে ০-৪ দিনের মধ্যে মৃত্যুহার গ্রামাঞ্চলে ১১.৬ শতাংশ আর শহরে এই হার মাত্র ৩.৮ শতাংশ। মোট মৃত্যুর মধ্যে গ্রামাঞ্চলে শুধু শিশুমৃত্যু হারই ১১.৬ শতাংশ আর শহরের ক্ষেত্রে এই শতাংশ মাত্র ৩.৪ শতাংশ।
অসমের মাধ্যমিক পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক পরিষদের প্রাক্তন সচিব কমল গগৈ বলেছেন, গ্রামাঞ্চলে আধুনিক পরিকাঠামো যুক্ত হাসপাতাল জরুরি, কিন্তু তার চেয়েও বেশি জরুরি সচেতনতা। এজন্য দরকার ব্যাপক কাউন্সেলিং।