পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা:মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধীরে ধীরে খালি হয়ে যাচ্ছে। পুরনো সহযোদ্ধারা সবাই একে একে হাত ছাড়ছেন। যে গুটি কয়েক ব্যক্তির কালীঘাটে আনাগোনা ছিল বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশপাশে যাদের দেখা যেত তাঁদের সংখ্যাও কমছে। ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসের পর এবার চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যর পদত্যাগ। তৃণমূলের সব পদে ইস্তফা দিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
গন্ডগোলের সূত্রপাত তৃণমূল ভবনের দখল নিয়ে। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয় ও বিক্ষুব্ধদের নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের শিবির গঠনের পর মমতা যে নতুন কমিটি তৈরি করেছিলেন, তাতে তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রীর পদ দেওয়া হয়েছিল চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে তৃণমূল ছাড়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
দিনকয়েক আগে নিউ টাউনের হোটেলে তৃণমূলের বিধায়ক-কাউন্সিলদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ছেলে সৌরভ ভট্টাচার্য। তারপর থেকেই জল্পনা তৈরি হয়। সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতার কর্মীদের নিয়ে একটি কর্মিসভায় নেতৃত্বও দেন চন্দ্রিমা। তারপরই এই সিদ্ধান্ত।
ঋতব্রত শিবিরের মেট্রোপলিটানের ভবন দখলের প্রসঙ্গে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, “শুক্রবার একটা ঘটনা হয়েছে যা সকলের জানা। বেশ কয়েকজন বিধায়ক গিয়েছিলেন। আমি যতক্ষণ ছিলাম ওই বিধায়করা আমার সঙ্গে কথা বলেননি। আমি বাড়ি চলে আসার পর মমতাদি ফোন করে “তুমি ওদের হাতে ভবন তুলে দিলে?” আমার এত দুঃখ হয়েছে। আমি বললাম, দিদি আপনি আমাকে এই কথা বলতে পারলেন? এই অভিমানে নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলে সূত্রের খবর।
আগামী সোমবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনে মমতা শিবির ও ঋতব্রত শিবির, দুই পক্ষেরই উত্তর দেওয়ার কথা। আসল তৃণমূল হিসেবে প্রমাণ দিতে হবে তাঁদের। তার ঠিক আগেই তৃণমূলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সঙ্গী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
পেশায় আইনজীবী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য । চন্দ্রিমা ছিলেন মমতার ছায়াসঙ্গী, অন্যতম ভরসার মুখ। স্বাস্থ্য, অর্থ, আইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতর সামলেছেন। ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে পরাজিত হওয়ার পর ২০১৭ তে দক্ষিণ কাঁথি থেকে জয়ী হন চন্দ্রিমা। ২০২১-এ দক্ষিণ দমদম বিধানসভা থেকে জয়ী হন তিনি। ২০২৬-এ ওই কেন্দ্রে বিজেপির কাছে পরাজিত হষ তিনি।