নিউজ ডেস্ক: উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ে ৭ শ্রমিকের মৃত্যু। গুরুতর আহত বেশ কয়েকজন। এখনও ২ শ্রমিকের খোঁজ নেই। সুড়ঙ্গের ভিতরে কাজ করার সময় হঠাৎ তীব্র জলস্রোতে আটকে পড়েন তারা। বেরনোর সুযোগটুকুও পাননি অনেকেই।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৭টা নাগাদ হঠাৎই ধস নামে সুড়ঙ্গে। পিপলকোটিতে Tehri Hydro Development Corporation Ltd-র ওই সুড়ঙ্গে জল ঢুকে পড়ায় আটকে পড়েন ২২ শ্রমিক। পাহাড় থেকে জল সহ কাদা মাটির স্তূপ ঢুকে পড়ায় বন্ধ হয়ে যায় সুড়ঙ্গের একটি অংশ।
ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত শুরু হয় উদ্ধারকাজ। দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী একে একে সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করে আনে শ্রমিকদের। স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ২০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। শুক্রবার সকালে রুদ্রপ্রয়াগ থেকে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-র একটি দল দুর্ঘটনাস্থলে গিয়েছে। উদ্ধারকাজে তদারকি করছেন চামোলির জেলাশাসক গৌরব কুমার। পাম্পের সাহায্যে সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে জল বের করার কাজও চলছে।

মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী নজর রেখেছেন গোটা বিষয়টির ওপর। তিনি নিজেই প্রবীণ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতি মুহূর্তের আপডেট নিচ্ছেন। হাসপাতালে ভর্তি আহত শ্রমিকদের সঙ্গেও দেখা করেছেন ধামী।
উল্লেখ্য, কিছুদিন ধরেই চামোলি জেলায় টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বেড়ে গিয়েছে পাহাড়ি নদীগুলির জলস্তর। নীতি ভ্যালি অঞ্চলে জলের স্রোতে ভেঙে গেছে সেতু। যা সোশাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যে ভাইরাল। এর আগে ২০২৩ সালেও উত্তরকাশীর সিল্কিয়ারা-বারকোট সুড়ঙ্গের নির্মীয়মাণ অংশে ধস নামে। টানা ১৭ দিনের প্রচেষ্টার পরে উদ্ধার করা হয় শ্রমিকদের। ২০২৫-এ পিথোরাগড়ে ধৌলিগঙ্গা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে সুড়ঙ্গ ধসের ঘটনায় আটকে পড়েছিলেন ১৯ জন কর্মী। উত্তরাখণ্ডে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য সুড়ঙ্গটি খনন করা হচ্ছিল। কাজের বরাত দেওয়া হয়েছিল হিন্দুস্তান কনস্ট্রাকশন কোম্পানি-কে।
ভিডিও দেখুন-