
স্পোর্টস ডেস্কঃ হোস্টনের বিছানো সবুজ আবারও ঝলসে ওঠল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হল মঙ্গলবার। গোলেই ফের যাবতীয় সমালোচনার জবাব দিলেন CR7। ৪১ বছর বয়সেও যে তাঁর গোলের ক্ষিধে মিটেনি মঙ্গলবার এটা প্রমাণ করলেন পর্তুগিজ মহাতারকা। তাঁর জোড়াগোলে উজবেকিস্তানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দেয় পর্তুগাল।
আই এম ব্যাক। ফুটবল বিশ্বকে এই কথা মনে করিয়ে দিতেই বোধহয় মঙ্গলবার রাতে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে একতরফা এক ম্যাচে ৫ গোলে জেতে তাঁর দল পর্তুগাল। ম্যাচে জোড়াগোল করে ফের একবার ফুটবল বিশ্বকে বুঝিয়ে দিলেন কেন তিনি অন্যতম সেরা। মঙ্গলবারও বরাবরের মতোই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন তিনি।
এই দুই গোলের পর বিশ্বকাপে ডবল ফিগারে পৌঁছে যান তিনি। বিশ্বকাপে ১০ গোলের পাশাপাশি পর্তুগালের জার্সিতে তাঁর গোলের সংখ্যা ১৪৫। ফুটবল বিশ্বে এমন বিরলতর নজির গড়ার পথে মঙ্গলবার একাধিক নতুন রেকর্ডও তৈরি করেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ম্যাচের ৬ মিনিটের মাথায় প্রথম গোল করে টানা ছটি বিশ্বকাপের প্রতিটিতে গোল করার বিরল নজির গড়েন রোনাল্ডো।
২০০৬ থেকে ২০২৬ প্রতিটি বিশ্বকাপে গোলের বিরল নজির রোনাল্ডোর। এখানেই শেষ নয়, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোই সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক গোলের মালিক। শুধু আন্তর্জাতিক গোলই নয়, টানা ছটি বিশ্বকাপে গোলের নজির গড়ে রোনাল্ডো ছাপিয়ে যান লিওনেল মেসিকেও। মেসি ছটি বিশ্বকাপ খেললেও ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা সংস্করণে কোনও গোল পাননি।
এটাই শেষ নয়, একম্যাচে জোড়া গোল করে ৪১ বছর ১৩৮ দিন বয়সে বিশ্বের জ্যেষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে জোড়া গোলের বিরল নজিরও গড়ে দেখালেন সি আর সেভেন। যে বয়সে বিশ্বের অধিকাংশ ফুটবলার অবসর জীবন উপভোগ করেন, সেই বয়সে রোনাল্ডো বিশ্বকাপের মঞ্চে গড়ছেন নতুন নজির। তাঁর ফিটনেস, আত্মবিশ্বাস এবং গোল করার ক্ষমতা এখনও ফুটবল বিশ্বকে বিস্মিত করে রেখেছে।
পর্তুগালের জন্য এই জয় শুধু তিন পয়েন্ট নয়, এই বিশ্বকাপে তাঁদের আরও অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় দেখাল। সমালোচনার উত্তর দিতে যে পাল্টা কিছু বলার প্রয়োজন হয় না, সেটা আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন এই শতাব্দীর অন্যতম সেরা ফুটবলার। নতুন ইতিহাস গড়া যেন অভ্যাসে বদলে গেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর। রোনাল্ডোর এই ফর্ম পর্তুগালকে কতটা টেনে নিতে পারে এটাই হবে লক্ষ্যণীয়।

উল্লেখ্য, ২০০৬, ২০১০ এবং ২০১৪, জার্মানি, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ব্রাজিল বিশ্বকাপে একটি করে গোল করেন সি আর সেভেন। ১৮-র রাশিয়া বিশ্বকাপে চারগোল করলেও চার বছর পর দোহায় একটি মাত্র গোল করেন তিনি। এদিকে, বিশ্বকাপের অভিষেকে ২০০৬ সালে জার্মানিতে প্রথমবার গোল করলেও চার বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকা সংস্করণে গোল পাননি মেসি। কিন্তু এরপর আর আটকে রাখা যায়নি মেসিকে। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে চারটি, ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে একটি এবং শেষবার আর্জেন্টিনার খেতাব দখলের লড়াইয়ে মেসির গোল ছিল সাতটি। এবার প্রথম দুটো ম্যাচেই পাঁচ গোল হয়ে গেছে মেসির।