নিউজ ডেস্ক: অবশেষে জিআই ট্যাগ তকমা পেল ত্রিপুরার বাদ্যযন্ত্র সারিন্দা। এনিয়ে ত্রিপুরার চারটি সামগ্রী জিআই বা জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশনের আওতায় এল। বাকি তিনটি হল ত্রিপুরার বৃহৎ আনারস, যা কুইন পাইনঅ্যাপল নামে পরিচিত, ত্রিপুরার রিশা ও পাচরা (রিগনাই) পোশাক এবং মাতাবাড়ির পেড়া।
তারের বাদ্যযন্ত্র সারিন্দা ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির উপাদান। সারিন্দা জিআই ট্যাগ পাওয়ায় ত্রিপুরার নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পীদেরও স্বীকৃতি দেওয়া হল।
ত্রিপুরার লোকগানে সারিন্দার ব্যবহার বহুকাল ধরেই চলে আসছে। সারিন্দার জিআই স্বীকৃতির ফলে ত্রিপুরার লোকগান ও সংস্কৃতি গোটা দেশ এবং তার বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে।
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বলেছেন, ত্রিপুরার সারিন্দা জিআই ট্যাগ পাওয়া অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমাদের ঐতিহ্যময় সাংগীতিক উত্তরাধিকার প্রসারে এটি বড় ভূমিকা নেবে এবং একইসঙ্গে তৈরি শিল্পীদের জন্য তৈরি করবে নতুন সুযোগ। শিল্পী, সংগীতকাররা ধারাবাহিকভাবে সারিন্দা ব্যবহার না করলে এই স্বীকৃতি পাওয়া যেত না, উল্লেখ করেছেন মানিক সাহা।
ত্রিপুরার মিউজিশিয়ান ক্ষেত্রমোহন দেববর্মা বলেছেন, ত্রিপুরার আদি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ সারিন্দা। জনজাতীয় সংগীতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম সারিন্দা ব্যবার করছে। রাজ্যের রাজকীয় এবং জনজাতীয় সংস্কৃতিতে সারিন্দার ব্যবহার চলছে।
তরুণ জনজাতীয় শিল্পী আথুকুরি দেববর্মা এই স্বীকৃতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ত্রিপুরার জনজাতীয় সংস্কৃতির জন্য এটা বিরাট সাফল্য।
সাধারণত একটিমাত্র শক্ত কাঠের গুঁড়ি খোদাই করে সারিন্দা তৈরি করা হয়। এর নীচের অংশটি ফাঁপা ও গোলাকার এবং পাতলা চামড়া বা চামড়ার ছাউনি দিয়ে ঢাকা থাকে। এর ওপরের দিকটি খোলা এবং মাঝের অংশটি চাপা (ডমরুর মতো) হয়।
সারিন্দায় সাধারণত তিন থেকে চারটি প্রধান তার থাকে যা ঘোড়ার লেজের লোম বা রেশম সুতো দিয়ে বাজানো হয়। কিছু সারিন্দায় মূল তারের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অনুরণনকারী বা সিম্প্যাথেটিক তারও ব্যবহার করা হয়।
বাংলা, অসম এবং ত্রিপুরার লোকসংগীত, বিশেষ করে বাউল গান, কবিগান, মুর্শিদি, এবং ভাওয়াইয়া গানে সারিন্দা অনুষঙ্গ হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
Next Post