পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনে ধরাশায়ী । দলে ভাঙন । তবে আরও বিপাকে তৃণমূল কংগ্রেস। ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ ঘিরে নতুন আইনি জটিলতা। কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের হওয়া আদালত অবমাননার মামলায় আজ নোটিস দেওয়া হল তৃণমূল চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অভিযোগ, ২০২৫ সালের ২১ জুলাইয়ের সভার জন্য কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
আজ বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। আদালত তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বকে নোটিস জারি করে। নোটিসে বলা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁদের নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করুক। ৩ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির সম্ভাবনা ।
মামলার সূত্রপাত ২০১৮ সালে। সেই সময় রাজনৈতিক সভা ও মিছিলের কারণে কলকাতার রাস্তায় ব্যাপক যানজট এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি নিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় তৃণমূল-সহ রাজ্যের ৩৮টি রাজনৈতিক দলকে পক্ষ করা হয়েছিল। বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন ,কোনও রাজনৈতিক সভার জন্য শহরের প্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা যাবে না।
আদালত জানিয়েছিল, রাস্তার অন্তত একটি অংশ সবসময় যানবাহন ও পথচারীদের জন্য খোলা রাখতে হবে। পাশাপাশি অ্যাম্বুল্যান্স, দমকল এবং জরুরি পরিষেবার অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে। যান নিয়ন্ত্রণের জন্য বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থাও রাখতে হবে এবং সেই সংক্রান্ত তথ্য আগে থেকেই সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে।
আবেদনকারীর অভিযোগ, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই ধর্মতলার সভার সময় এই নির্দেশিকা মানা হয়নি।
সভাকে কেন্দ্র করে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকে। নিত্যযাত্রী, অফিসযাত্রী ব্যাপক সমস্যায় পড়েন। সেই কারণেই আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ তুলে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে কী ব্যাখ্যা দেন এবং হাই কোর্ট এই অভিযোগকে কতটা গুরুত্ব দেয়, তার উপরই নির্ভর করবে মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি। আপাতত সকলে তাকিয়ে ৩রা জুলাইয়ের শুনানির দিকে।