পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: সময়ের সাথে বাড়ছে তারাতলায় মৃত্যু মিছিল। তারাতলা দুর্ঘটনায় মৃত্যু বেড়ে ১৫। রাতভর উদ্ধারকাজ চলার পর উদ্ধার হয় আরও তিনজনের দেহ। হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

এ যেন মৃত্যু মিছিল। তারাতলায় ভেঙে পড়া শেডের ধ্বংসস্তূপে রাতভর চলল উদ্ধারকাজ। সেনা জওয়ান, এনডিআরএফ , স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ, কলকাতা পুলিশ এবং দমকল বাহিনীর প্রচেষ্টায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধার। ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩১ জনকে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে ১৫ জনকে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তারাতলা দুর্ঘটনায় মৃতদের নাম হল, কৃষ্ণ চৌধুরী (উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ভাটপাড়ার বাসিন্দা), রোহিত চৌধুরী (পূর্ব বর্ধমান জেলার অগ্রদ্বীপ), চন্দ্রমা চৌধুরী (নদিয়া জেলার কোতোয়ালি), রাহুল চৌধুরী (নদিয়া জেলার কোতোয়ালি), পাপ্পুকুমার রজক (উত্তর ২৪ পরগনা জেলার শ্যামনগর), ঘী কুমার (বিহারের মুঙ্গের), আসগর হোসেন (কলকাতার একবালপুর), সাহিল সর্দার (দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বাসন্তী), হাসান ইমান (গার্ডেনরিচ), গণেশ কালান্দি (ধানবাদ), নবীন সিংহ (পশ্চিম বর্ধমান জেলার রানিগঞ্জ), স্বপন মণ্ডল (শ্যামনগর)। এছাড়াও দু’জনের নাম পরিচয় জানা যায়নি। আহত ১৯ জন এখনও এসএককেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গুদামের ভেঙে পড়া ছাদের নীচে প্রাণের সন্ধান চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। নিয়ে আসা হয়েছে অক্সিকাটার যন্ত্র। ওই যন্ত্র দিয়ে সাহায্য করছেন ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ। অক্সিকাটার দিয়ে লোহার বিম কাটার কাজ করা হয়। উদ্ধার অভিযানে সেনার আধিকারিকদের পাশাপাশি উপস্থিত রয়েছেন রেলের সেকশন ম্যানেজারও। সমস্ত শ্রমিককেই এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। উদ্ধারকারী দলের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও বেশ কয়েকজন আটকে রয়েছেন। তাঁদের খুঁজে বের করতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছে সেনাবাহিনী।
তারাতলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে, এই দায় আসলে কার, কীভাবে ঘটল এই ঘটনা এ নিয়ে থেকে যাচ্ছে বিস্তর প্রশ্ন। উত্তর পেতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।