নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা-ইরানের শান্তি সমঝোতার পর বিশ্ববাজারে অনেকটা কমেছে অশোধিত তেলের দাম। কিন্তু ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম একই রয়েছে। অশোধিত তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারত পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম দেশ। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেমে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্বাভাবিক হয়েছে। ফলত ভারতে জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক স্তরে বেঞ্চমার্ক অশোধিত তেলের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেল পিছু ৭২-৭৩ মার্কিন ডলার। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলাকালীন এই দাম ব্যারেল পিছু ১১০ ডলার পর্যন্ত হয়েছিল। মার্কিন অশোধিত তেলের আরও কমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেল পিছু ৭০ ডলার। এখন অশোধিত তেলের দুটি বেঞ্চমার্কের দামই ফিরে গেছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ-পূর্ব পরিস্থিতিতে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটের পর পেট্রোল ও ডিজেলের দাম যে ৮ টাকা বেড়েছিল সেটা একই রয়েছে।
দেশের তিনটি প্রধান জ্বালানি সংস্থা বর্তমানে পেট্রোল বিক্রি করে যথেষ্ট লাভ করছে, যদিও ডিজেলের ক্ষেত্রে সামান্য ক্ষতি করেও বিক্রি করছে তেল সংস্থাগুলি। যুদ্ধ চলাকালীন দেশের তেল সংস্থা পুরনো দামেই জ্বালানি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিল। জ্বালানি ক্ষেত্রের কর্তাদের দাবি, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেই দেশে তেলের দাম কমে না। যদি বিশ্ববাজারে তেলের দাম হ্রাস পেয়ে স্থিতিশীল হয় তবেই দেশে তেলের দাম কমতে পারে।
আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক একদিন আগে অর্থাৎ ২৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেল পিছু ৭১.১৭ ডলার। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তেলের দাম পৌঁছেছিল ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারে।

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের একটি রিপোর্টে প্রকাশ যে ২৪ জুন ব্যারেল পিছু ৭০.৭১ ডলারে অশোধিত তেল কিনেছে ভারত। জুন মাসে ভারত গড়ে প্রতি ব্যারেল অশোধিত তেল কিনেছে ৮৬.৩১ ডলারে আর ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের কেনা অশোধিত তেলের দাম ছিল গড়ে ব্যারেল পিছু ৭২.৪৭ ডলার।