জনবিন্যাস পরিবর্তন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক সারলেন অমিত শাহ

7

নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাস পরিবর্তন (Demographic Changes) হয়েছে বলে বারবার সরব হয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাদেশিদের প্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। জনবিন্যাস পরিবর্তন বিষয়ে শনিবার বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (MHA) আধিকারিকদের নিয়ে এই বৈঠক হয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট লাল কেল্লা থেকে যে ঘোষণা করেছিলেন, তার প্রেক্ষিতেই ২০২৬ সালের ২৬ মে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কমিটি গঠন করা হয়। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকারের নেতৃত্বে এই কমিটি। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকার জনসংখ্যার পরিবর্তনগুলি নিয়ে পর্যালোচনা করবে। এই পরিবর্তনগুলি খতিয়ে দেখতে এই কমিটি বিভিন্ন মহানগর ও শিল্পনগরীও পরিদর্শন করবে। উচ্চ-পর্যায়ের এই কমিটির প্রথম বৈঠকটি ইতিমধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বৈঠকের আলোচ্যসূচিও চূড়ান্ত করা হয়েছে। কমিটির সুষ্ঠু কার্যকারিতার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান করবে।

বাংলাদেশি-রোহিঙ্গা শনাক্ত করে আটক-কেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। সেই আবহেই ‘অস্বাভাবিক’ জনবিন্যাস বদল খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি আগে তৈরি করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জনবিন্যাস বদলকে দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক ভারসাম্য এবং জনজাতি সমাজের সুরক্ষার জন্য বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

জনবিন্যাস বদল নিয়ে বার বার মুখ খুলেছেন বাংলার বিজেপি নেতৃত্ব। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনেও গেরুয়া শিবিরের নেতাদের মুখে বার বার শোনা গিয়েছে অনুপ্রবেশকারী, বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গাদের কথা। পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়ার পর, অসমের বন্দি শিবিরের মতোই হোল্ডিং সেন্টার তৈরির কাজে হাত দিয়েছে বিজেপি সরকার। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। আদালতকে এড়িয়ে অনুপ্রবেশকারীদের আটক-শিবিরে পাঠানো নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলা থেকে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের পুশ ব্যাক শুরু করেছে বিএসএফ। শনিবারই তেলেঙ্গানায় ৭ বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের কাছে ভারতের কোনও বৈধ নথি ছিল না। অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম সহ বিভিন্ন রাজ্য দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে যে ভারতের একাধিক প্রান্তে বহু বাংলাদেশি রয়েছে তার প্রমাণ মিলছে। এবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কর্তাদের সঙ্গে এক প্রস্ত বৈঠক করে দ্রুত বিষয়টি নিয়ে মাঠে নামার বার্তাও দিলেন অমিত শাহ।