তারাপীঠে মন্দিরের সামনে হোটেলে বিধ্বংসী আগুন, অগ্নিদগ্ধে মৃত একাধিক পুণ্যার্থী
পৃথা দাশগুপ্ত: সোমবার সকালে তারাপীঠ মন্দির লাগোয়া একটি বেসরকারি হোটেলে বিধ্বংসী আগুন লাগে। এখনো পর্যন্ত যা খবর, এই ঘটনায় পুড়ে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ছয় পুণ্যার্থীর। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর জখম বেশ কয়েকজন। শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার। ফলে স্বাভাবিকভাবেই পুণ্যার্থীদের ভিড়। চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ঘটনা ঘিরে।
পুলিশ সূত্রে খবর, আজ সকাল সাড়ে ছটা থেকে সাতটার মধ্যে তারাপীঠ মন্দিরের সংলগ্ন “বিদেশিনী” হোটেলের একতলায় হঠাৎ আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন উপরের তলায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ভয়াবহ আকার ধারণ করে। প্রাথমিক তদন্তে দমকল আধিকারিকদের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। তবে হোটেলের অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা ঠিকঠাক ছিল কিনা তা তদন্ত সাপেক্ষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
আগুন লাগার সময় হোটেলের বিভিন্ন তলায় ঘুমোচ্ছিলেন দূর থেকে আসা পুণ্যার্থীরা। ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা চত্বর। অনেকেই ঘরের মধ্যেই আটকে পড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। হুড়োহুড়ি ও আতঙ্কে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে ওঠে।
তারাপীঠ মন্দিরের পাশে তারাপীঠ থানা থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে হোটেল ‘বিদেশিনী’। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই তারাপীঠ এবং রামপুরহাট থানার পুলিশ সেখানে পৌঁছে যায়। দমকলকর্মীরা বেশ কিছু ক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাঁদের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। হোটেল সূত্রে খবর, ফাইবারের অন্দরসজ্জা থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল দ্রুত। বাইরে বৃষ্টি, ফলে দমকলকর্মীদের উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হয়। বেশ কয়েক জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করলেও অন্তত ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। আহতদের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার জন্য যাওয়া হয়েছে।
হোটেল সূত্রে খবর, ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহের এনসিবি হঠাৎ ফেটে যায়। সেখানে আগুন ধরে যায়। হোটেলের মালিক কল্যাণ পাল বলেন, ‘‘আমাদের এখানে রাতপাহারার দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা উঠে সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র সচল করেন। বিদ্যুৎ সরবরাহের তার খুলে দেন। কিন্তু তত ক্ষণে হোটেলসজ্জার সঙ্গে ফাইবারের যে জিনিসপত্র ছিল, তাতে আগুন ধরে যায়। আগুনটা আরও বেড়ে যায়। দমকলকর্মীরা এসে আগুন নিবিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ধোঁয়া পাঁচতলা পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। আতঙ্কে ঘর থেকে আবাসিকেরা বেরিয়ে আসতে শুরু করেছিলেন। তাঁরা বাইরে আগুনের মধ্যে পড়ে যান। অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। পিছন দিক দিয়ে বেরোনোর দরজা রয়েছে। কিন্তু সেটা অনেকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তাঁরা রিসেপশন দিয়ে বেরোতে শুরু করেন। তখনই অনেকে ঝলসে যান।’’
মর্মান্তিক এই ঘটনার পর হোটেলগুলির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ও তীর্থযাত্রীরা। যদিও মৃতদের নাম পরিচয় এখনো জানা যায়নি।