আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সঙ্গে কথা শুভেন্দু অধিকারীর

25

পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা:প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শোকপ্রকাশ করে এক্স বার্তা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহু দিনের রাজনৈতিক সঙ্গী ছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘দীর্ঘদিনের জনসেবার পরেও তাঁকে যে হয়রানি ও মানসিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা আমাদের সকলকে একবার থমকে ভাবতে বাধ্য করে—নিরন্তর রাজনৈতিক বিরোধিতা ও বিদ্বেষের মূল্য কতটা ভয়াবহ হতে পারে।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর‌ও লেখেন, ‘আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণের খবরে আমি গভীর ভাবে মর্মাহত। জীবনের একটা বড় সময় তিনি শিক্ষকতা ও সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তাঁর বিনয়ী স্বভাব এবং রামপুরহাট ও বীরভূমের মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক তাঁকে সকলের কাছে অত্যন্ত আপন করে তুলেছিল। তাঁর জীবনের শেষ কয়েক দিনে তাঁকে যে প্রবল মানসিক ও আবেগজনিত চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, এই মর্মান্তিক ঘটনাকে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে তা।’

পাঁচ বারের বিধায়ক আশিস এ বার বিধানসভা ভোটে পরাজিত হওয়ার পরে কালীঘাট তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছিলেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলিতে তাঁকে দেখা যায়নি।

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী জানান, “নতুন সরকার আসার পর আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর হয়নি। প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকারকে পুলিশ কিংবা প্রশাসনের তরফে তলবও করা হয়নি। দুর্নীতিগ্রস্ত কোনও লোক তাঁকে ভয় দেখিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশকে তাঁর ব্যবহৃত ফোনগুলি দেওয়ার জন্য পরিবারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি।”

তিনি আরো বলেন, “এই সুইসাইড নোট ফরেনসিকে যাবে। তাঁর হাতের লেখা কি না এটা পরীক্ষা নিরীক্ষা হবে। একজন রাজনৈতিক নেতা কিংবা বিরোধী নেতা হিসেবে অনেক কথা বলতে পারতাম। কিন্তু, এখন ওই সুইসাইড নোটের উপর আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না। সুইসাইড নোট পরীক্ষা নিরীক্ষার পর একজন পুলিশমন্ত্রী হিসেবে আমার বলা উচিত। পুলিশমন্ত্রীর দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।”

এরপর তিনি বলেন, “সকালেই খবরটা শুনেছি। খুবই দুঃখের। আমরা তাঁর সঙ্গে কাজ করেছি। ২০০৬ সালে গুটিকয়েক বিরোধী বিধায়ক ছিলেন। তার মধ্যে উনিও ছিলেন, আমিও ছিলাম। স্বাভাবিকভাবে আমার কাছে বেদনার। তারপর পুলিশকে যা বলার বলেছি। জেলাশাসককে বলেছি। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বলেছি পুলিশকে। স্থানীয় বিধায়ক ধ্রুব সাহার কাছে জানার চেষ্টা করেছি। স্থানীয় সাংসদ অসিত মাল আমায় ফোন করেছিলেন। উনি পরিবারের সঙ্গে ছিলেন। আমি বললাম, ভিডিয়ো কল করছি। ভিডিয়ো কলে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। সমবেদনা জানিয়েছি। পাশে থাকার কথা জানিয়েছি। আমি তাঁদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কেউ উত্ত্যক্ত করেছেন কি না। আমাদের এই ১০০ দিনে কিছু ঘটেছে কি না। তাঁরা বললেন, কোনও কিছু ঘটেনি। বরং ধ্রুব সাহা বাড়িতে এসে প্রণাম করে গিয়েছেন।”

তিনি বলেন, “তৃণমূলের যে অংশটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছে, তার সঙ্গে তো তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। নির্বাচনে হারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কমিটি গড়েছিলেন, তা থেকে তিনি পদত্যাগ করেন। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূলের থেকে দূরত্ব বজায় রাখার কথা জানিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবে কেউ ব্ল্যাকমেলিং করে থাকতে পারে। এগুলো পুলিশ দেখবে। যদি কিছু পাওয়া যায়।”

পুলিশ প্রশাসনের তরফে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর কোনও চাপ সৃষ্টি করা হয়নি জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি পরিবারকে জিজ্ঞাসা করেছি, পুলিশ কখনও ফোন করেছে কি না। থানায় ডেকেছে কি না। তাঁরা জানিয়েছেন, ডাকেনি। তাঁর চলে যাওয়াটা দুঃখজনক। উনি থাকলে ভালোই হত। উনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মমতাপন্থী তৃণমূলের থেকে দূরত্ব তৈরি করেছিলেন। বেশ কিছুদিন আগে আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। বলেছিলাম, কলকাতায় এলে সচিবালয়ে আসবেন। প্রাক্তন বিধায়ক হিসেবে বিধানসভায় আসবেন। সবমিলিয়ে বেদনাদায়ক।”