দেশদ্রোহের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে জ্ঞানেশকুমারকে: খাড়গে

180

নিউজ ডেস্ক: বিরোধীদের জ্ঞানেশকুমারকে অপসারণের জন-অবিশ্বাস সভায় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন, দেশদ্রোহের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশকুমারের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে কাজ করার এবং ভোট চুরিতে সহায়তা করার অভিযোগ এনেছেন। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের আয়োজিত প্রতীকী জন-অবিশ্বাস প্রক্রিয়ায় তিনি বলেন, জ্ঞানেশকুমারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বিচার হওয়া উচিত।
শনিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেন যে, জ্ঞানেশকুমার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ইশারায় কাজ করছেন এবং নির্বাচন কমিশন ভোট চুরির পথ প্রশস্ত করছে।
রাজাজি মার্গে খাড়গের বাসভবনে এই অনুষ্ঠানে পৌরোহিত্য করেন লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমার। সমাবেশে খাড়গে বলেন, সাত মাস আগে বিরোধী দলের ১৯৩ জন সাংসদ সংসদের উভয় কক্ষে জ্ঞানেশকুমারকে অপসারণের দাবি জানিয়ে নোটিস জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও বিবেচনা ছাড়াই সেগুলো খারিজ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এই প্রতীকী প্রস্তাবের উদ্দেশ্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা করা, সিইসির সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনও হিসাব মেটানো নয়।
তিনি বলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আমাদের কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ নেই। আমাদের উদ্দেশ্য, নির্বাচন কমিশন যেন সংবিধানের মূল চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিরপেক্ষভাবে কাজ করে, যাতে সাধারণ মানুষের আস্থা অটুট থাকে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন সমাজের দুর্বল অংশ, নারী এবং তরুণ প্রজন্মের ভোটাধিকার, দিল্লিতে বসে থাকা কোনো ব্যক্তির দ্বারা কম্পিউটারের মাধ্যমে গোপনে মুছে না ফেলা হয়।

ইন্ডিয়া জোটের ৬ অভিযোগ
নির্বাচন চুরির ষড়যন্ত্র: জ্ঞানেশকুমারের বিরুদ্ধে নির্বাচনী কারসাজিতে সহায়তা করার অভিযোগ

১৩.২ কোটি ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া: ভোটার তালিকা থেকে ১৩.২ কোটি ভোটারের নাম মুছে ফেলা

সংসদের অনুমোদন ছাড়াই ‘ফর্ম ৬’ পরিবর্তন: সংসদীয় অনুমোদন ছাড়াই ‘ফর্ম ৬’-এ পরিবর্তন করেছেন জ্ঞানেশকুমার

‘ইসিআইনেট’-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকার নিয়ন্ত্রণ: নির্বাচন কমিশন ‘ইসিআইনেট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভোটার তালিকার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে

অন্য দুই কমিশনারকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা: জ্ঞানেশ কুমার অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দিয়েছেন

প্রধানমন্ত্রী মোদী ও অমিত শাহের নির্দেশে কাজ করা: জ্ঞানেশকুমার কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ
কংগ্রেস সভাপতি বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে ২০১৪ সাল থেকে নানা উপায়ে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক দলত্যাগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ব্যবহার এবং ইলেক্টোরাল বন্ড— এসবই একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৪ সাল থেকে ক্ষমতা দখল ও তা ধরে রাখার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তারা সাংসদদের ভাগিয়ে নিয়েছে, রাজনৈতিক দল ভেঙেছে, সরকার ফেলে দিয়েছে; ইলেক্টোরাল বন্ড, ইডি ও সিবিআইকে ব্যবহার করেছে, আর এখন ভোট চুরি করছে।
তাঁর অভিযোগ, বিজেপি সরকারের আইন জ্ঞানেশকুমারকে ভোট চুরিতে সহায়তা করার সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এই আইন পাসের সমালোচনা করেন—সেসময়ে বিরোধী দলের ১৪৫ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, আমাদের কাছে এমন ভোট চুরির শত শত উদাহরণ রয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার আইন, ২০২৩-এর কারণেই জ্ঞানেশকুমার ভোট চুরিতে সহায়তা করতে পারছেন। বিরোধী দলের ১৪৫ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করার পর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এই বিলটি পাস করানো হয়েছিল। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও কলঙ্কজনক।
খাড়গে আরও অভিযোগ করেন যে, এই আইন নির্বাচন কমিশনারদের অভূতপূর্ব সুরক্ষা প্রদান করেছে। তিনি বলেন, এই আইন নির্বাচন কমিশনারদের আজীবন সুরক্ষাকবচ দিয়েছে, এরকম সুরক্ষা এমনকি ভারতের রাষ্ট্রপতি বা প্রধান বিচারপতিকেও দেওয়া হয় না।

ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ খাড়গের
এসআইআর ঘোষণার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি-বিরোধী ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন হঠাৎ এসআইআর ঘোষণা করে দিল। দেশজুড়ে এটি কার্যকর করা হল, যার মূল লক্ষ্য বিজেপি-বিরোধীদের ভোট তালিকা থেকে মুছে ফেলা।
মোদী সরকারের বিরুদ্ধে খাড়গের অভিযোগ, নিজেদের ব্যর্থতা থেকে নজর ঘোরাতেই তারা ‘বহিরাগত’ ও ‘অনুপ্রবেশকারী’র মতো বিষয় সামনে নিয়ে আসছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিরোধী দলগুলো আসলে প্রকৃত ও যোগ্য ভোটারদের ভোটাধিকার রক্ষার চেষ্টা করছে।
খাড়গে বলেন, মোদী সরকার নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে বহিরাগত ও অনুপ্রবেশকারীদের অজুহাত দিচ্ছে। তারা অভিযোগ করছে যে, আমরা অনুপ্রবেশকারীদের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছি। বিষয়টি মোটেও তা নয়; আমরা কেবল প্রকৃত ও বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় বজায় রাখার পক্ষে কথা বলছি। তাদের অধিকার রক্ষার জন্যই আমরা এই কাজ করছি।
তিনি উল্লেখ করেন যে, অনেক দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর পরই নারীরা ভোটাধিকার পাননি। অথচ ভারত তার সংবিধান কার্যকর হওয়ার মুহূর্ত থেকেই লিঙ্গ, জাতি, অর্থনৈতিক অবস্থা বা সামাজিক পটভূমি নির্বিশেষে সকল নাগরিককে ভোটাধিকার প্রদান করেছে।
খাড়গে আরও অভিযোগ করেন যে, সেই সময়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ সর্বজনীন ভোটাধিকারের বিরোধিতা করেছিল।
তিনি বলেন, ভারত এমন একটি দেশ, যা সংবিধান কার্যকর হওয়ার মুহূর্ত থেকেই সবাইকে এই অধিকার দিয়েছে। নারী, দলিত, প্রান্তিক মানুষ এবং দরিদ্র—সবাইকেই তাদের পটভূমি নির্বিশেষে এই অধিকার দেওয়া হয়েছে। অথচ সেই সময়েও আরএসএস এই অধিকারের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছিল এবং এর বিরোধিতা করেছিল।