মালদহে চালু হয়ে গেল হোল্ডিং সেন্টার

12

সুমিত ঘোষ: নির্দেশিকা জারির এক দিনের মধ্যেই মালদহের ইংরেজবাজারের চন্দনপার্কে হোল্ডিং সেন্টার চালু হয়ে গেল। গাজোল থানার পাণ্ডুয়া থেকে বাংলাদেশি সন্দেহে ধৃত ৯জনকে রাখা হয়েছে এই হোল্ডিং সেন্টারে। এর মধ্যে ৩ মহিলা ও ৬ নাবালক ও নাবালিকা।

গতকালই বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃতদের রাখার জন্য জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশিকা জারি করেছিল নবান্ন। তার একদিনের মধ্যেই সেই নির্দেশিকা কার্যকর হয়ে গেল মালদহে।

মালদহের হোল্ডিং সেন্টারে আঁটসাঁটো করা হয়েছে নিরাপত্তা। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছেন ১২জন পুলিশ কর্মী। থাকছেন ৩জন সিভিল ডিফেন্স ও ৩ সিভিক ভলান্টিয়ার। রান্নার জন্যও নিযুক্ত করা হয়েছে রাঁধুনি।

এই হোল্ডিং সেন্টারে বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃতদের আটকের পর ৩০ দিন রাখা হবে। অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে ধৃতেরা তো বটেই, যাঁরা এর আগে ধরা পড়েছিলেন এবং বন্দি ছিলেন, যাঁদের দেশের বাইরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে, তাঁদেরও সেখানে রাখা যাবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

হোল্ডিং সেন্টার চালু নিয়ে বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, ‘আগের সরকার কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করেনি। শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বে সেই কাজ শুরু করেছে নতুন সরকার। আর সেই প্রক্রিয়া পূরণের পরই প্রথম পদক্ষেপ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য ও দেশের সুরক্ষাই অগ্রাধিকার।’

হোল্ডিং সেন্টার চালু নিয়ে খুব একটা বিরোধিতা লক্ষ্য করা যায়নি তৃণমূল নেতা ও ইংরেজবাজারের পুরপ্রধান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর গলাতেও। তিনি বলেন, ‘প্রকৃত অনুপ্রবেশকারীদেরই যেন চিহ্নিত করার পর তাঁদের স্থান হয় হোল্ডিং সেন্টারে। পাশাপাশি তাঁদের উপর যেন দমন পীড়ন না হয়।’

অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর নির্দেশিকা আগেই জারি করেছিল কেন্দ্র। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, পূর্বতন সরকার কেন্দ্রের সেই নির্দেশ পালন করেনি। তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে ওই সংক্রান্ত আইন কার্যকর করা হয়েছে। সি‌এএ বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অন্তর্ভুক্ত নন যাঁরা, এ বার তাঁদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে। সরাসরি তুলে দেওয়া হবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর হাতে। বিএসএফ তাঁদের সংশ্লিষ্ট দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ করবে।