নিউজ ডেস্ক: ভরাডুবির পরও তৃণমূলের টলমল নৌকার পাল যিনি এখনও ধরে রয়েছেন তিনি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্যীয়ান আইনজীবী ও তৃণমূল সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এখনও লড়ে যাচ্ছেন ‘দিদি’র সঙ্গী হয়ে। ঘাসফুল শিবিরের অন্দরের বিদ্রোহ এবার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে গেল বৃহস্পতিবার। সরাসরি তোপ দাগলেন তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে।
অভিষেকের বিরুদ্ধে সই জাল কাণ্ডের মামলা থেকে না জানিয়েই কল্যাণকে আইনজীবী হিসেবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। তারপরই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন কল্যাণ। তাঁর বক্তব্য, ‘ভ্যাকেশন বেঞ্চে শুক্রবার শুনানি হওয়ার কথা ছিল অভিষেকের মামলা। এই মামলার জন্য ৬ ঘণ্টা বসেছিলাম। বিচারপতির কাছে বিষয়টি উত্থাপনের পর বুধবার মামলার শুনানির কথা ছিল।’ সোম, মঙ্গলবার দিল্লিতে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ। মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরের পার্টি অফিসে তল্লাশির জন্য যায় সিআইডি টিম। সেখানেও পৌঁছে গিয়েছিলেন কল্যাণ।
এরপরই বুধবারও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদলতের কাছে সই জালকাণ্ডে দ্রুত শুনানির আবেদন করেন। কেন জরুরি বিষয়টি তা বিচারপতির দৃষ্টিগোচর করান কল্যাণ। এরপর বৃহস্পতিবার মামলার শুনানির জন্য তালিকায় রাখার সিদ্ধান্ত নেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি। কিন্তু কল্যাণের দাবি, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় এক আইনজীবী এসে বলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে পাঠিয়েছেন। তিনি কল্যাণকে জানান, সিআইডির এই তল্লাশি ইস্যুতে আরও একটি রিট পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। তখনই রেগে যান কল্যাণ। তিনি প্রশ্ন তোলেন কেন তাঁর পরামর্শ না করেই আরও একটি রিট পিটিশন দাখিল করা হল? ‘যদি মনে হয় আমি পারব না তাহলে ছেড়ে দিন আমাকে। ডাস্টবিনের মতো ব্যবহার করবেন না’, বক্তব্য কল্যাণের।
বৃহস্পতিবার সকালে কল্যাণের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাধ্যমে জানানো হয়, আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য এই মামলায় লড়বেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই মামলা থেকে লড়বে বারণ করেছেন অভিষেক। তাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও মামলাতেই আর আদালতে লড়বেন না কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট করেছেন বৃহস্পতিবার। তিনি বলেন, ‘এতো ঔদ্ধত্য, আমার পছন্দ নয়। ৪৫ বছর ধরে আইনজীবী হিসেবে কাজ করছি। সম্মান করা উচিত।’ এরপরই রাজনীতির প্রসঙ্গেও কল্যাণের দাবি, ‘এই মানুষগুলো জুনিয়র হিসেবে কাজ করেছে আমার সঙ্গে। ওর জন্যই আমরা সব হারালাম। পার্টিতে যে সমস্যটা তৈরি হয়েছে ওর (অভিষেকের) জন্যই। কিন্তু সে সকলকেই অবমাননা করে চলবে। আমাকে অসম্মান করছে। এটা সহ্য করা যায় না।’ কল্যাণের স্পষ্ট কথা, ‘আমি দিদিকে অনুরোধ করব আপনি যদি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ভরসা রাখেন, আমাকে ছেড়ে দিন। অভিষেকের সঙ্গে থাকুন। সে দলটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।’
রাজনৈতিক মহলের মতে, কল্যাণের এই মন্তব্য তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেওয়ার সামিল। কারণ, বিধানসভা ভোটে গরিষ্ঠ সংখ্যক সাংসদ ও বিধায়ক যখন একে একে কালীঘাট ও ক্যামাক স্ট্রিট থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে স্পিকারের কাছে পৃথক ব্লক তৈরির আবেদন জানাচ্ছিলেন, তখনও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু একনিষ্ঠভাবে মমতার পাশে থাকার বার্তাই দিচ্ছিলেন। কিন্তু সেই কল্যাণের ওপরেও যে গত কয়েকদিনে প্রবল মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল, তা আজ স্পষ্ট।