কলকাতায় আত্মসমর্পণ ঝাড়গ্রামের পুষ্পা’র

36

পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: রাজ্য পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন ঝাড়গ্রামের মাওনেত্রী পুষ্পা। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দার উপস্থিতিতে নিজের আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করলেন। গুলি, বোমা, বন্দুক, হিংসার, বারুদকে বিদায় জানিয়ে অবশেষে আলোর পথ দেখলেন এক সময় জঙ্গলমহল কাঁপানো প্রাক্তন মহিলা মাওবাদী নেত্রী পুষ্পা ওরফে শকুন্তলা।
কেন্দ্র ও রাজ্যের ডবল ইঞ্জিন সরকারের দেওয়া পুনর্বাসন নীতি এবং সুস্থ, নিরাপদ সামাজিক জীবনে ফিরিয়ে আনার যে আশ্বাস, তার ওপর আস্থা রেখেই এই সিদ্ধান্ত, জানিয়েছেন পুষ্পা। ‌

কী করত পুষ্পা ওরফে শকুন্তলা?
পুলিশ সূত্রে খবর , প্রায় পঁচিশ বছর আগে অর্থাৎ ২০০১ সালে অত্যন্ত অল্প বয়সে মাওবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এই আন্দোলনে যোগদান। শুরুতে সাংস্কৃতিক শাখার সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করেন। গণসংগীত, মাও আদর্শ প্রচার, লিফলেট বিলি এগুলোই ছিল তাঁর মূল কাজ।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর গুরুত্ব বাড়ায় তিনি সশস্ত্র স্কোয়াডের প্রথম সারিতে চলে আসেন। ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশা সীমান্তে মাওবাদীদের একাধিক বড়সড় নাশকতামূলক ও সামরিক কার্যকলাপে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। ‌পশ্চিমবঙ্গের সীমানার ভেতরেও বিভিন্ন সময়ে মাওবাদী নেটওয়ার্ক পরিচালনা এবং নাশকতার ব্লু-প্রিন্ট তৈরির কাজেও মাস্টারমাইন্ড ছিলেন তিনি।

কলকাতা পুলিশ অজয় নন্দ সাংবাদিক বৈঠকে জানান, ‘শকুন্তলা ওরফে পুষ্পার বাড়ি মেছুয়ার বেলপাহাড়িতে। দলমা স্কোয়াডের জোনাল কমিটি সদস্য ছিলেন। ২০০১ সালে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়াকালীন তিনি এই দলে যোগ দিয়েছিলেন। তখন থেকেই তিনি ঝাড়খণ্ড-বিহার-ওড়িশা সীমান্তে তিনি সক্রিয় ছিলেন। পরে মিসির বেসরার নির্দেশে সারান্দার জঙ্গলে কার্যকলাপ ছিল। এখনও কিছুজন ওখানে সক্রিয় আছেন। এখন শকুন্তলা আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পুষ্পা জানান, সরকার যেভাবে আত্মসমর্পণকারীদের মূল স্রোতে ফেরাতে উদ্যোগী তাতে তিনি খুশী। সামাজিক মর্যাদা, বাসস্থান ও স্থায়ী জীবিকা সংস্থানের পাকা প্রতিশ্রুতি রয়েছে তার কাছে। তাই তিনি নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন।
একই সঙ্গে, নিজের জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এখনও যারা জঙ্গলে কিংবা সীমান্তে সশস্ত্র আন্দোলনে করছেন, তাঁদের প্রতিও তাঁর বার্তা, ‘হিংসা বা অস্ত্রের রাস্তায় কোনও ভবিষ্যৎ নেই। বন্দুকের নল নয়, বরং শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক জীবনের কোনও বিকল্প হতে পারে না।’ তাই বারুদ, বন্দুকের মোহ ত্যাগ করে বাকিদেরও অবিলম্বে সমাজের মূলধারায় ফিরে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।