নিউজ ডেস্ক: জল, জল একটু জল! পাকিস্তানের বাতাসে যেন এই আর্তনাদ। পরিস্থিতি এমন যে দূষিত জল খেয়েই পিপাসা মেটাতে গিয়ে অসুস্থ বহু শিশু।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ এবং সংলগ্ন শহর রাওয়ালপিন্ডিতে তীব্র জল সঙ্কট। ভারতের কাছে মাথা ঠোকার পরিস্থিতি শাহবাজ শরিফের দেশের। ভারতের জল সিন্ধু থেকে যাবে না পাকিস্তানে। জঙ্গিদের মদত দাতা পাকিস্তানে শবক শেখাতে পহেলগাঁওয়ে হামলার পর থেকেই এই সিদ্ধান্ত ভারতের। গ্রীষ্মের দাবদাহ বাড়তেই জলের সঙ্কট ঘনীভূত হচ্ছে জঙ্গি মদতদাতা রাষ্ট্র পাকিস্তানে।

বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাওয়ালপিন্ডি শহর ও সেনা নিবাস এলাকায় দৈনিক জলের চাহিদা প্রায় ১৩০ মিলিয়ন গ্যালন; অথচ সরবরাহের পরিমাণ ৭০ মিলিয়ন গ্যালনেরও কম। এর ফলে ৬০ মিলিয়ন গ্যালনেরও বেশি জলের বিশাল ঘাটতিত কার্যত থুতু ঘিটেই থাকতে হচ্ছে পাকিস্তানের নাগরিকদের।
রাওয়ালপিন্ডি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের প্রতিদিন ৫০ মিলিয়ন গ্যালন জলের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মাত্র ১২.৭৮ মিলিয়ন গ্যালন জল পাওয়া যাচ্ছে—অর্থাৎ ৩৭ মিলিয়ন গ্যালনের ঘাটতি রয়েছে। রাওয়ালপিন্ডি শহরের জন্য প্রায় ৭০ মিলিয়ন গ্যালন জলের প্রয়োজন; অথচ খানপুর বাঁধ, রাওয়াল বাঁধ এবং টিউবওয়েল থেকে শহরটি মাত্র ৫১.৫ মিলিয়ন গ্যালন জল পায়। চাহান বাঁধ, দাদুচা বাঁধ এবং চেরাহ বাঁধের মতো প্রকল্পগুলোর উপর ভরসা করতে হচ্ছে এই পরিস্থিতিতে। এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৮০ মিলিয়ন গ্যালন জল পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, দ্রুত যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে তাতে জলের সরবরাহতেও টান পড়বে।
সিন্ধু নদ থেকে জল আনার লক্ষ্যে ‘গাজি ওয়াটার চ্যানেল’-কে কেন্দ্র করে একটি বড় প্রকল্পও বছরের পর বছর ধরে থমকে আছে। এর ক্ষমতা বাড়িয়ে ২০০ মিলিয়ন গ্যালন করার পরিকল্পনা থাকলেও তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে উভয় শহরের বাসিন্দারা দৈনন্দিন প্রয়োজনে জল সংগ্রহের ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। জানা গেছে, সেনানিবাস এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি আরও বেশি শোচনীয়।
পাকিস্তানে জলের সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। যার ফলে লাখ লাখ মানুষ গভীর কূপ খনন করতে এবং জল সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছে। খরা-কবলিত এলাকার মহিলারা এই সঙ্কটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া, দূষিত জল পান করার ফলে অনেক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এই সংকট কেবল গ্রামাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শহরাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। জঙ্গিদের আর্থিক মদত, তাদের লালন পালনের টাকা থাকলেও পাকিস্তান সরকারের জল জোগাড়ের জন্য ভারতের কাছে হাত পাততেই হবে। ভারতের উপর তাদের জঙ্গিরা একের পর এক হামলা করে রক্ত ক্ষরণ করেছে। অথচ সেই জঙ্গিদের শেষ যাত্রায় পাকিস্তানের জাতীয় পতাকায় তাদের বীরের মর্যাদা দিয়েছে পাকিস্তান। ফলে পাকিস্তানের রূপ যে আসলে কী তা প্রকাশ্যেই এসে গেছে। এবার ভারতের চালে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ জলের রূপেই বেড়ে চলেছে।