SIR-এ বাদ পড়া ভোটারদের করণীয় কী?

20

নিউজ ডেস্ক: SIR মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরই প্রশ্ন উঠছে যেসব ভোটারের নাম আগে তালিকায় ছিল, কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছে তাদের ভবিষ্যৎ কী, করণীয় কী।

বুধবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে যে এসআইআর করার অধিকার আছে নির্বাচন কমিশনের। অবাধ ও বৈধ নির্বাচনের জন্যই প্রয়োজন এসআইআর। রায় দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মিশ্র, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ।
বিহারে এসআইআর বিজ্ঞপ্তির পর তার আইনি বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট সেই মামলার রায় দিয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে যাদের নাম তালিকায় নেই, তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে। বাদ পড়াদের তালিকা ৪ সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রের কাছে পাঠাত হবে নির্বাচন কমিশনকে। প্রসঙ্গত, নাগরিকত্ব বিচারের ভার দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের হাতে। নাগরিকত্ব নির্ধারণ করতে পারে না নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্ট এইসঙ্গে বলেছে, কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার অর্থ এই নয় যে তিনি নাগরিক নন। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম উঠবে ভোটার তালিকায়।
বিহার তো বটেই দেশের যেসব রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাদের নাম বাদ পড়েছে তাদের নামের তালিকা কেন্দ্রের কাছে পাঠাবে কমিশন। এবং এটা পাঠাতে হবে ৪ সপ্তাহ বা একমাসের মধ্যে।

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই রায়ের পর জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি রয়েছে। যার জেরে ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশ অনুযায়ী এই ২৭ লক্ষকে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য যেতে হবে ট্রাইব্যুনালে।

যাদের নাম লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বাদে অন্যান্য কারণে বাদ পড়েছে তাদের কাছে এখন দুটি উপায় রয়েছে।
নতুন ভোটার হিসেবে তারা ফর্ম ৬ পূরণ করে তালিকায় নাম তোলার আবেদন করতে পারে। আরেকটি উপায় হল, নির্বাচন কমিশন তাদের নাম কেন্দ্রের কাছে পাঠালে কেন্দ্রের ডাকের অপেক্ষায় থাকা। সুপ্রিম কোর্টের রায় বিহারে এসআইআর নিয়ে। আগামী ৪ সপ্তাহে বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ৬৫ লক্ষের নাম কেন্দ্রের কাছে পাঠাতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
অন্যান্য রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাদের নাম বাদ পড়েছে তাদের হয় ফর্ম ৬ পূরণ করে তালিকায় নাম ওঠানোর আবেদন করতে হবে কিংবা অপেক্ষায় থাকতে হবে কখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক তাদের তলব করে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য।

প্রসঙ্গত, দেশে প্রথম এসআইআর হয়েছে বিহারে। দ্বিতীয় পর্যায়ে এসআইআর হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট সহ নয়টি রাজ্য ও তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে।

তৃতীয় পর্যায়ে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে দেশের ১৬ রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। এরপর বাকি থাকবে হিমাচল প্রদেশ, জম্মু কাশ্মীর এবং লাদাখ। উল্লেখ্য, অসমে এনআরসি হয়ে যাওয়ায় এসআইআর হয়নি।