নিউজ ডেস্ক: শিলাপাথার-লিকাবাড়ি জাতীয় সড়কে বিক্ষোভ। অসমের ধেমাজি এবং অরুণাচল প্রদেশের লোয়ার সিয়াং জেলার সীমান্তে সম্প্রতি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অসমের ১১ যুবক। তার প্রতিবাদে তিনদিন ধরে চলছে অরুণাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে আর্থিক অবরোধ।
বৃহস্পতিবার শিলাপাথার-লিকাবাড়ি জাতীয় সড়কে পুলিশের গাড়ি ও পুলিশকে লক্ষ করে ইটবৃষ্টি করে বিক্ষোভকারীরা। দুয়েকজন সিআরপিএফের জওয়ান ও পুলিশকর্মী ইটের আঘাত পেয়েছেন।
১০ আগস্ট অসম-অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তে, ধেমাজির গেরুয়ামুখ পুলিশ থানার অন্তর্গত গোগামুখ রাজস্ব চক্রের মিংমাং বস্তিতে সংঘর্ষ হয়েছিল। অভিযোগ, অরুণাচলি পুলিশের পোশাক পরা একদল যুবক গুলি চালায় অসমের যুবকদের ওপর। ঘটনায় ১১ জন গুলিবিদ্ধ, তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অরুণাচলের জমি অসমের লোকজন দখল করে রেখেছে এই অভিযোগে গুলিবৃষ্টি।
ঘটনার পরই মিসিং ও গালো সম্প্রদায়ের মাঝে বিরোধ শুরু হয়। টাকাম মিসিং পোরিন কেবাং সংগঠন ১২ আগস্ট থেকে অরুণাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে অনির্দিষ্টকালের আর্থিক অবরোধের ডাক দিয়েছে। শিলাপাথার-লিকাবাড়ি জাতীয় সড়ক অবরোধ তারই ফলশ্রুতি। অসম হয়ে অরুণাচল প্রদেশে এই পথেই যায় বিভিন্ন পণ্য।
এমন নয় যে শুধু অসমের লোকজনই বিক্ষোভ দেখাচ্ছে, উল্টোদিকে অরুণাচল প্রদেশের লোয়ার সিয়াংয়েও শুরু হয়েছে অসম বিরোধী বিক্ষোভ। দুপক্ষের ইটবৃষ্টিতে আহত বেশ কয়েকজন পুলিশ এবং সিআরপিএফ জওয়ান।
মিসিং মিমাং কেবাং সহ টাকাম মিসিং মহিলা কেবাং সংগঠনের কর্মীরা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। সবার দাবি, ঘটনায় জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। এবং যারা অপরাধী তাদের তুলে দিতে হবে অসম পুলিশের হাতে। এইসঙ্গে দীর্ঘদিনের অসম-অরুণাচল জমি বিবাদের স্থায়ী সমাধানের দাবি তুলেছেন তাঁরা।
অরুণাচল প্রদেশের নম্বরওয়ালা সব গাড়ি আটকে দিচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। বুধবার অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দুটি সংগঠনকেই অবরোধ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত অসম-অরুণাচল প্রদেশের সীমানা ৮০৪ কিমি দীর্ঘ। অসম ও অরুণাচল প্রদেশের মাঝে ১২৩ গ্রাম বা এলাকা ছিল বিতর্কিত। ক্রমাগত আলোচনা চালিয়ে ইতিমধ্যে ৭১টি জায়গার নিষ্পত্তি হয়েছে, এখনও ৫২টি জায়গা নিয়ে দুই রাজ্যের বিবাদ আছে। প্রতিবেশী দুই রাজ্যের সরকার জমি বিবাদ নিষ্পত্তির আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে নামসাই ডিক্লারেশন অনুযায়ী।
Next Post