IRAN-US: ইরান-আমেরিকা শান্তিবৈঠকে ছন্দপতন

11

নিউজ ডেস্ক : সুইজারল্যান্ডে আমেরিকা ও ইরানের শান্তিবৈঠক। রবিবারের পরও শেষ হয়নি আলোচনা। তবে দুদেশের মাঝে আলোচনায় ছন্দপতন ঘটেছে রবিবার। আলোচনা চলাকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্যে আলোচনা ছেড়ে বেরিয়ে যান ইরানের প্রতিনিধিরা।

তবে আলোচনা ভেস্তে যায়নি। ইরানের প্রতিনিধিরা বেরিয়ে গেলেও কাতার-পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ফের শুরু হচ্ছে শান্তিবৈঠক। এক সাক্ষাৎকারে রবিবার ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রয়োজনে আমরা হরমুজ প্রণালী দখল করে নিতে পারি। শান্তিবৈঠকে উপস্থিত ইরানের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, আপনারা হরমুজ় বন্ধ করে দিলে আপনাদের দেশ বলে আর কিছু থাকবে না। আপনারা নিজেদের দেশেও ফিরতে পারবেন না।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের পরেই ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মুহাম্মদ বাঘেই গালিবাফ পাল্টা খোঁচা দেন ট্রাম্পেক, ওদের হুমকির যদি এতই দম থাকত, তা হলে আজ ওদের এই পর্যায়ে পৌঁছতে হত না। আমরা আমেরিকার হুমকিকে ভয় পাই না। মন্তব্যের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের আরও সতর্ক থাকা উচিত।

বৈঠকে আমেরিকার পক্ষে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। ইরানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ। শান্তিবৈঠকে মধ্যস্থতা করছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও কাতারের রাষ্ট্রপ্রধান। ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ইরান আলোচনা কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলেও মূলত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও কাতারের রাষ্ট্রপ্রধানের অনুরোধে তাঁর ফের আলোচনায় স্বীকৃত হয়েছে।

রবিবার ৮০ মিনিট আলোচনা হয়েছে আমেরিকা-ইরানের। স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল হরমুজ প্রণালী। হরমুজ ছাড়াও আলোচনা হয়েছে লেবাননে অশান্তি, ইরানের পারমাণবিক কার্যকলাপ নিয়ে। দিনকয়েক আগে ভার্চুয়াল মাধ্যমে (IRAN-US)দুই দেশের একটি মউ স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়শকিয়ান।

প্রাথমিকভাবে হরমুজ পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়ে রাজি হয়েছিল আমেরিকা, ইরান উভয় পক্ষই। কিন্তু লেবাননে হিজবুল্লা ও ইজ়রায়েলের সংঘর্ষ থামেনি। ইরান জানিয়েছে, ইজ়রায়েল হামলা না-থামানোয় হরমুজ তারা ফের বন্ধ করে দিয়েছে।