‘তৃণমূল একটাই’, অভিষেকের আবেদনে স্পিকারের সঙ্গে কথা ১৯ জুন

35


নিউজ ডেস্ক: এবার সংসদে ভাগ্য পরীক্ষা তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের। ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ বা NCPI-এর সঙ্গে সংযুক্তির পর তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ একটি পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চেয়েছেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে সংসদ সূত্রে খবর, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৯ জুন একটি বৈঠক করবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল দলে বিভাজন নিয়ে অভিষেক স্পিকারের কাছে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারেন।

বিদ্রোহী সাংসদরা ইতিমধ্যেই ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেছেন, অন্যদিকে মমতা-পন্থী গোষ্ঠী তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিল। সূত্রের খবর, স্পিকার আইন ও বিধি-বিধান মেনেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে আলোচনরা জন্য। মমতাপন্থী গোষ্ঠী লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল। সেই চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছিল যেন লোকসভার ভেতরে তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) কোনও বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি বা আলাদা মর্যাদা দেওয়া না হয়।


লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠিতে লেখেন, তৃণমূল কংগ্রেস একটি অখণ্ড রাজনৈতিক দল এবং এর সংসদীয় অংশকে মূল সংগঠন থেকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়। তাছাড়া, শুধুমাত্র স্বাক্ষরের ভিত্তিতে গঠিত কোনো বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী স্বীকৃতির দাবি জানাতে পারে না।

এদিকে, অমিত শাহ বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের পরামর্শ দিয়েছেন, নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে না জড়িয়ে তাঁরা যেন ‘তৃণমূল’ নামের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক পরিচয়কেই অগ্রাধিকার দেন। এই কৌশলের অংশ হিসেবেই, বিদ্রোহী সাংসদরা এই পর্যায়ে প্রতীক নিয়ে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চান না। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই বিষয়টি আদালত ও নির্বাচন কমিশনের কাছে গড়ালে আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী প্রতীকটি ‘স্থগিত’ (ফ্রিজ) করে রাখা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি উভয় পক্ষই নিজেদের ‘তৃণমূল’ হিসেবে দাবি করে, তবে সংসদে দলের স্বীকৃতি, আসন বিন্যাস এবং সদনের ভেতরে দলের পরিচিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এছাড়া আরেকটি প্রশ্ন হলো—অন্য একটি দলের (এনসিপিআই) সঙ্গে সংযুক্তির বিষয়ে লোকসভার স্পিকারকে অবহিত করার পরেও বিদ্রোহী সাংসদরা কি মূল দলের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করতে পারেন? বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী, কোনো দলের নির্বাচিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ বা তার বেশি সদস্য যদি অন্য কোনো দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে দলত্যাগ-বিরোধী আইন সেখানে প্রযোজ্য হয় না। সেক্ষেত্রে তাঁরা স্বতন্ত্রভাবে অথবা নতুন দলের ব্যানারে সংসদে বসতে পারেন।
তবে নির্বাচনী প্রতীক, দলের নাম এবং সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিষয়টি সংসদের নয়, বরং নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ারভুক্ত। কোনো দলের সংসদীয় ও সাংগঠনিক—উভয় শাখার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ যদি দলের নাম, নির্বাচনী প্রতীক বা দলীয় তহবিলের ওপর দাবি জানায়, তবে নির্বাচন কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারে। তদন্ত চলাকালীন কমিশন উভয় পক্ষকে আলাদা নির্বাচনী প্রতীকও বরাদ্দ করতে পারে।